ব্রিগেডের নজরদারিতে ড্রোন , নিরাপত্তায় ৩৫ সেক্টরে ভাগ ময়দান

ব্রিগেডে শপথগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা। ৩৫টি সেক্টরে ভাগ ময়দান, প্রতিটি ব্লকে আইপিএস অফিসার, নজরদারিতে ড্রোন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ব্রিগেডের মেগা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে গোটা ময়দান চত্বর। নতুন সরকারের শপথ ও বিজয় সমাবেশ উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ড্রোন নজরদারি থেকে ছাদে স্নাইপার সদৃশ পুলিশ মোতায়েন— নিরাপত্তার প্রতিটি স্তরে থাকছে কড়া নজরদারি। ভিভিআইপি উপস্থিতি এবং বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, নিরাপত্তার সুবিধার জন্য ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে পৃথক ব্লক। প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আইপিএস পদমর্যাদার অফিসার। গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার নিজে।

অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের সামনের অংশ ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্রিগেড সংলগ্ন এলাকা এবং ময়দানের উপর ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি আশপাশের বহুতল ভবনের ছাদেও মোতায়েন থাকবেন সশস্ত্র পুলিশকর্মীরা।

শুধু ভিভিআইপি নিরাপত্তাই নয়, সাধারণ মানুষের প্রবেশেও থাকছে কড়াকড়ি। অনুষ্ঠানে ঢোকার আগে প্রত্যেককে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমন্ত্রিত অতিথি হোক বা সাধারণ দর্শক— সবার জন্যই বাধ্যতামূলক চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাঠে কোনওভাবেই ছাতা, ব্যাগ কিংবা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। কেউ এই ধরনের সামগ্রী নিয়ে এলে তাঁকে প্রবেশদ্বার থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের আগেই এই নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুরো ব্রিগেড চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহলও। রাজনৈতিক পালাবদলের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যাতে কোনও ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন না ঘটে, সে দিকেই এখন কড়া নজর প্রশাসনের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত