বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই ব্রিগেডমুখী জনতার ঢল, শহরের রাস্তায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি, আর উৎসবের আবহে কার্যত গেরুয়া রঙে রাঙা কলকাতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা।
শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত শাহ এবং সহকারী পর্যবেক্ষক মোহন চরণ মাঝির উপস্থিতিতেই সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপরই কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, বাংলার নতুন মুখ হতে চলেছেন শুভেন্দু।


শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলায় বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীকী সাফল্যের মঞ্চ।
ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্রিগেডের দিকে ছুটে আসছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। যান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে অনেককেই দীর্ঘ পথ হাঁটতে হচ্ছে। কিন্তু তাতেও উৎসাহে ভাটা নেই। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান— উৎসবের আবহে মেতেছে গেরুয়া শিবির।
ময়দান চত্বরে সকাল থেকেই জমে উঠেছে ঝালমুড়ির দোকান। সমর্থকদের একাংশের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্ত তাঁদের কাছে আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল। সেই কারণেই আজ অনেকেই ঝালমুড়িকে ‘মোদির প্রসাদ’ বলেও উল্লেখ করছেন। দোকানগুলিতে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে।


তবে শুধুই রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শন নয়, শপথের মঞ্চে এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বাঙালিয়ানাও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনেই শপথ অনুষ্ঠান হওয়ায় মঞ্চে থাকছে রবীন্দ্রসঙ্গীত, ছৌ নাচ, বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং ধুতি-পাঞ্জাবির আবহ। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগকে সম্মান জানিয়েই মানুষের মন জয় করেছে দল।
গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু এবার নির্বাচনী প্রচার থেকেই বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা এবং আবেগকে সামনে রেখে আলাদা কৌশল নেয় গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই আবেগঘন প্রচারই শেষ পর্যন্ত বিজেপির বঙ্গজয়ের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।







