ভারতের রাস্তায় যাত্রী সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ—সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ট্যাক্সি-সহ সমস্ত পাবলিক সার্ভিস যানবাহনে বাধ্যতামূলকভাবে বসাতে হবে ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস (VLTD) ও প্যানিক বাটন। নতুন হোক বা পুরনো—নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর না করলে মিলবে না ফিটনেস সার্টিফিকেট বা পারমিট। যাত্রীদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে মহিলা, প্রবীণ ও শিশুদের কথা মাথায় রেখে এই কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বুধবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ জানায়, দেশে এখনও এক শতাংশেরও কম পরিবহণ গাড়িতে এই আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধির ১২৫এইচ ধারাকে কঠোরভাবে কার্যকর করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও পাবলিক সার্ভিস ভেহিকল—যেমন ট্যাক্সি, বাস বা অন্য পরিবহণ যান—যদি VLTD ও প্যানিক বাটন ছাড়া রাস্তায় নামে, তবে তাকে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা পরিবহণ পারমিট দেওয়া যাবে না। শুধু তাই নয়, এই ডিভাইস ইনস্টলেশনের তথ্য ‘VAHAN’ অ্যাপেও আপডেট থাকতে হবে।
ট্যাক্সি-বাসে বাধ্যতামূলক জিপিএস ও প্যানিক বাটন, যাত্রী সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের

এছাড়াও, আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশকে সমর্থন করেছে—গাড়ি বিক্রির আগেই নির্মাতাদের কারখানা থেকেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইনস্টল করে দেওয়া উচিত। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে দেশের বিভিন্ন অটোমোবাইল প্রস্তুতকারকের সঙ্গে আলোচনা করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই মামলাটি মূলত দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত। ২০১২ সালে কোয়েম্বাটুরের চিকিৎসক এস রাজশেখরন একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন, যেখানে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছিল।

শুনানির সময় আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—ভারতে কার্যত ‘লেন ড্রাইভিং’-এর সংস্কৃতি নেই, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ। কেন্দ্রকে এই বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, একাধিক রাজ্য এখনও স্পিড গভর্নর বসানো নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয়নি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। একইসঙ্গে, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা বোর্ড এখনও গঠন না হওয়ায় অসন্তোষ জানিয়ে তিন মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।



