‘হারের ব্যবধান ৩২ লক্ষ, বিচার বাকি ৩৫ লক্ষ নাম’, সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

সুপ্রিম কোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ৩৫ লক্ষ ভোটারের আবেদন ঝুলে থাকায় অন্তত ৩১টি আসনের ফল প্রভাবিত হয়েছে বাংলায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার বিধানসভা ভোটের ফলাফল কি প্রভাবিত হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ঝুলে থাকা লক্ষ লক্ষ ভোটারের কারণে? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সেই প্রশ্নই তুললেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যেখানে বিজেপি ও তৃণমূলের ভোটের ব্যবধান প্রায় ৩২ লক্ষ, সেখানে এখনও প্রায় ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় ঝুলে রয়েছে। এমনকি একাধিক আসনের ফলও এই কারণে প্রভাবিত হয়েছে বলে শীর্ষ আদালতে দাবি করেন তিনি।

সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হাজির হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার অন্তত ৩১টি আসনে বাদ পড়া বা বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যাই জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি।

একটি নির্দিষ্ট আসনের উদাহরণ তুলে কল্যাণ বলেন, “এক জায়গায় আমাদের প্রার্থী ৮৬২ ভোটে হেরেছেন। অথচ সেখানে প্রায় ৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।” তাঁর দাবি, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

তৃণমূল সাংসদ এদিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়েরের অনুমতিও চান। তিনি আবেদন করেন, এই পরিস্থিতিকে ভিত্তি করে ইলেকশন পিটিশন ফাইল করার অনুমতি দেওয়া হোক। এর জবাবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু জানান, আইন অনুযায়ী তাঁরা ইলেকশন পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

এরপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পৃথক ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) দায়ের করার পরামর্শ দেন। আদালত জানায়, কমিশনের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে নির্দেশ দেওয়া হবে।

শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। এসআইআর ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। সেই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কেউ ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিলে আদালতের কিছু করার নেই।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি না হলে আগামী পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তৃণমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে চার বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এরপরই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হবে, যাতে বোঝা যায় কতদিনের মধ্যে এই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন বিবেচনাধীন ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করে সেইসব আবেদন খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ভোটের সময়ও প্রায় ৩৫ লক্ষ আবেদন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় থেকে যায়।

সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনাল অনুমোদন করবে, তাঁরাই দুই দফায় ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। প্রথম দফার আগে মাত্র ১৩৬ জন এবং দ্বিতীয় দফার আগে ১৪৬৮ জনের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত