বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বড় বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের জনবিন্যাস দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ১০৫ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত সুরক্ষা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ সম্পূর্ণ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবের তত্ত্বাবধানে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। সূত্রের খবর, প্রায় ১০৫ একর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তার ইস্যুতে সরব। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জনবিন্যাস বদলের অভিযোগ তুলেছিলেন। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেও সেই প্রসঙ্গ সামনে এল।
শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, এদিন সামাজিক প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমানে চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তারাই পান, তা নিশ্চিত করতে স্ক্রুটিনি চালানো হবে।


শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “কোনও অভারতীয় যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা দেখা হবে। মৃত ব্যক্তির নামে সুবিধা যাওয়া বন্ধ করা হবে।” অর্থাৎ সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো নাম বা বেআইনি সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার দিকেও জোর দিচ্ছে নতুন সরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতির সঙ্গেই এই সিদ্ধান্তের যোগ রয়েছে। বিজেপির দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে এবার আরও কড়া অবস্থান নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার।







