প্রথম দিনেই স্পষ্ট বার্তা—‘অনুপ্রেরণা’ নয়, চাই বাস্তব কাজের ফল। নবান্নে শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, তোষণ বা আনুষ্ঠানিক ভাষণ নয়, এখন থেকে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হবে পরিষেবা ও ফলপ্রসূ কাজ।
সোমবার নবান্নে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ-সহ সব দফতরের সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিদের নিয়ে বৈঠকে প্রশাসনিক কাজের ধরণ নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাকে খুশি করতে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লিখতে হবে না। মানুষের জন্য কাজ হোক—এইটাই মূল লক্ষ্য।”


বৈঠকে শুভেন্দু প্রশাসনের সংস্কৃতি বদলের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, আগে ‘ফর দ্য পার্টি’ ধাঁচে সরকার চলত, এখন থেকে তা হবে ‘ফর দ্য পিপল’। আমলাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়ে চলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে সরাসরি মতামত জানাতে হবে।
‘অনুপ্রেরণা’ নয়, ফল চাই—নবান্নে প্রথম বৈঠকে আমলাদের ১০ কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

প্রশাসনিক যোগাযোগ আরও মসৃণ করতে একটি অভিন্ন গ্রুপ তৈরির নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে মুখ্যসচিব-সহ সমস্ত দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা থাকবেন এবং তিনিও সরাসরি যুক্ত থাকবেন। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অফিসারদের মর্যাদা বজায় রাখার ওপরও জোর দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অপমান বা ধমক দেওয়ার সংস্কৃতি তিনি সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে দায়বদ্ধতার প্রশ্নে কোনও শিথিলতা থাকবে না—ভুল হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।


বৈঠকে অতীতের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে অন্যায় দেখলে ‘না’ বলার সাহস দেখানো উচিত ছিল। ভবিষ্যতে এই সংস্কৃতি বদলানোর আহ্বান জানান তিনি।
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার উপর জোর দিয়ে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়াতে নির্দেশ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খরচ করতে কোনও বাধা নেই—কাজের গুণমানই হবে মূল বিবেচ্য।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এতদিন যে প্রকল্পগুলি আটকে ছিল, সেগুলি পুনরায় সক্রিয় করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় তহবিল দ্রুত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
দলের সংকল্পপত্র বাস্তবায়নের কথাও আমলাদের মনে করিয়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করাই সরকারের লক্ষ্য।
সবশেষে আমলাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—ভয় না পেয়ে, দ্বিধাহীন ভাবে কাজ করুন। যারা কাজ করবেন, সরকার তাঁদের পাশে থাকবে। প্রথম বৈঠকেই এই দশ নির্দেশের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



