উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sudip Bandyopadhyay) লক্ষ্য করে রাতারাতি পড়ে যাওয়া একাধিক পোস্টার। সোমবার গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাংসদের ছবি-সহ পোস্টার দেখা যায়, যেখানে তাঁকে ‘বেইমান’ ও ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পোস্টারের নীচে ‘প্রচারে: তাপস রায় (Tapas Roy), কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)’ লেখা থাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও দুই নেতাই এই পোস্টারের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে এই পোস্টার ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ থাকা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। এরপর সোমবার রাতে তিনি নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ায় ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের আশপাশ-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় এই পোস্টার সাঁটা হয়। পোস্টারে লেখা ছিল—‘বেইমান আর চোরটা, নয়নাদিদির বরটা’। আর সেই পোস্টারের নীচে তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই সুদীপের সঙ্গে এই দুই নেতার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস রায় দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল। এরপর কলকাতা উত্তর জেলা তৃণমূলের অন্দরেও সুদীপকে ঘিরে অসন্তোষের খবর সামনে আসে। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দেন। রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর তাঁর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছিল। তার ঠিক পরেই এই পোস্টার সামনে আসায় ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
যদিও পোস্টার বিতর্কে নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন তাপস রায় এবং কুণাল ঘোষ। তাপস রায় বলেন, পোস্টার কে বা কারা লাগিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তবে পোস্টারে যে অভিযোগ লেখা হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে একমত। তাঁর দাবি, এলাকাবাসী এবং দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।
অন্যদিকে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পোস্টার বা তার প্রচারের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এই পোস্টার ছাপিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন উত্তর কলকাতার অন্যতম আলোচ্য বিষয়। পোস্টারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং তাঁর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।



