নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে চলা আন্দোলনের আবহে সোমবার গভীর রাতে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতৃত্ব। বৈঠকের পর সংগঠনের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং আটক পড়ুয়াদের মুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বিহার ও অসম সরকার এ সংক্রান্ত পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে বলেও জানিয়েছে সংগঠন।
সোমবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে ‘ককরোচ’ মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের শুরুতে সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা মানা হয়নি। তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিহার সরকার জানায়, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনের জেরে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তির উদ্যোগও নেওয়া হবে। পরে একই ধরনের পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে অসম সরকার।
এরপর সোমবার গভীর রাতে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে বসেন ‘ককরোচ’ নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে রাত প্রায় ১টা নাগাদ সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, আলোচনায় বিহার ও অসম সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তির কপিও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সৌরভের দাবি, কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে যে বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া এবং যাঁরা এখনও আটক রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত মুক্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
বৈঠক শেষে সৌরভ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে। গত শুক্রবার কলকাতায় ‘ককরোচ’দের মিছিলের সময় ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের দিকে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কেন্দ্রের আশ্বাসের পর ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারদের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।



