অভিষেকের বিদেশযাত্রা বিতর্কে কড়া বার্তা দিলীপের! ‘জাল নথিতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা প্রমাণিত হলে শাস্তি অনিবার্য’

ইকোপার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা, জাল ডাক্তারি শংসাপত্রের অভিযোগ, এনডিএ সম্প্রসারণ এবং রাজ্যের একাধিক সমসাময়িক ইস্যুতে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে একসঙ্গে সরব হলেন বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতার ইকোপার্ক (Eco Park)-এ প্রাতঃভ্রমণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এনডিএ (National Democratic Alliance)-র সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে এসএফআই (SFI)-এর ভাইরাল ছবি বিতর্ক, সিন্ডিকেট রাজ, এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর বিদেশযাত্রা নিয়ে ওঠা জাল ডাক্তারি শংসাপত্রের অভিযোগ—সব বিষয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিশেষ করে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, এনসিপি (NCP)-র অজিত পওয়ার শিবিরের এনডিএ-য় যোগদান দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রতি আরও রাজনৈতিক দলের আস্থা বাড়ছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি দল এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মৌলালিতে এসএফআইয়ের মিছিল ঘিরে ভাইরাল হওয়া ছবি এবং তা নিয়ে ফ্যাক্ট-চেকের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন তথ্য ছড়িয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিজেপি-র ডাকা আন্দোলন নিয়েও কটাক্ষ শোনা যায় তাঁর গলায়। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, আন্দোলন করার অধিকার সবার থাকলেও তার ভিত্তি বাস্তবসম্মত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ওঠেনি। পশ্চিমবঙ্গে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তাঁর অভিযোগ।

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নবান্নে সিন্ডিকেট রাজ ও জনসাধারণের অভিযোগ গ্রহণের জন্য নতুন কন্ট্রোল রুম চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, বহু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পান না। তাই সরাসরি সরকারের কাছে অভিযোগ জানানোর বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। তিনি জানান, বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি পঞ্চায়েত দফতরেও টোল-ফ্রি নম্বর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নাগরিকরা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন।

সবশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা নিয়ে জাল ডাক্তারি শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে কোনও চিকিৎসক জাল নথি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন, তাহলে তাঁদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর কথায়, “অপরাধ থেকে বাঁচতে কেউ যদি ভুয়ো নথির আশ্রয় নেন এবং কোনও চিকিৎসক সেই কাজে সহযোগিতা করেন, তবে অন্যায়ের শাস্তি তাঁকেও পেতে হবে। তদন্তেই সব সত্য সামনে আসবে।”

রাজ্যের একাধিক ইস্যুতে দিলীপ ঘোষের এই ধারাবাহিক মন্তব্য রাজনৈতিক চাপানউতোরকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য আগামী দিনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন