রাঁচির ভিডিওকে মৌলালির বলে দাবি বিতর্কে তোলপাড়! সৃজনদের বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ, কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের

রাঁচির ভিডিওকে মৌলালির বলে সমাজমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত। ফ্যাক্ট-চেকের পর সৃজন ভট্টাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কড়া অবস্থান রাজ্য সরকারের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। রাঁচির (Ranchi) একটি ভিডিওকে কলকাতার মৌলালি (Moulali)-র ঘটনা বলে সমাজমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটির প্রকৃত উৎস নিয়ে ফ্যাক্ট-চেক সামনে আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বাম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। একইসঙ্গে সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharyya), দেবাঞ্জন দে (Debanjan De)-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে লালবাজার (Lalbazar)-এ অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

গত শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতার ধর্মতলা। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিক ও পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। এরপর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়, যেখানে বিজেপির পতাকা লাগানো একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবককে মিছিল লক্ষ্য করে টমেটো ও ইট ছুড়তে দেখা যায়।

বাম নেতৃত্বের দাবি ছিল, ভিডিওটি কলকাতার মৌলালির। কিন্তু পরে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকের মাধ্যমে জানা যায়, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে ধারণ করা হয়েছিল। এরপরই বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গকে বদনাম করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা সমাজবিরোধী কাজ করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হবে।

এরই মধ্যে সৃজন ভট্টাচার্য, দেবাঞ্জন দে-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে লালবাজারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

অন্যদিকে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট-চেকের মাধ্যমে তাঁরাও জানতে পেরেছেন যে ভিডিওটি মৌলালির নয়। তবে তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি ভুয়ো নয় এবং সেখানে যে হামলার ঘটনা দেখা যাচ্ছে, তা বাস্তব। তাঁর মতে, ঘটনাটি যেখানে ঘটে থাকুক না কেন, বিক্ষোভ মিছিল লক্ষ্য করে হামলা নিন্দনীয় এবং তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

ভিডিওর উৎস নিয়ে এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক তরজা থেকে আইনি পর্যায়েও পৌঁছেছে। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন