ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে আপাতত স্বস্তি তৃণমূলের। কলকাতার ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের যে বহুতলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস রয়েছে, সেখান থেকে এখনই তাঁকে বা তৃণমূলকে উচ্ছেদ করা যাবে না। দমকলের তরফে জারি করা অফিস খালি করার নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে কলকাতা হাই কোর্ট তা খারিজ করেছে। পাশাপাশি, তৃণমূলের জবাব বিবেচনা করে প্রয়োজনে নতুন করে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত অগস্টের শেষ সপ্তাহে। ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসে একটি হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের আধিকারিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর অফিসের দখল, লিজ এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে।
এরই মধ্যে ভবনের মালিকপক্ষও অফিসের দুই তলা নিয়ে আপত্তি তোলে। মালিকপক্ষের দাবি, ২০২০ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে ভবনটি নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে সই করেছিলেন তৎকালীন তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। মালিকপক্ষের অভিযোগ, চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গার বাইরে অতিরিক্ত অংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়াও অনুমতি ছাড়াই বড় হোর্ডিং ও বিলবোর্ড লাগানো এবং ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগও সামনে আসে। যদিও এগুলি মূলত বাড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ। সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
অন্যদিকে, অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও পদক্ষেপ করে রাজ্য দমকল দফতর। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলের যে দুই তলায় তৃণমূলের অফিস রয়েছে, সেগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট অন্তর্বর্তীভাবে ওই নির্দেশের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে নেওয়ার বিষয়ে অফিসের দখলদার পক্ষ প্রস্তুত এবং ওই মুহূর্তে তৎক্ষণাৎ বিপদের পরিস্থিতি নেই।
এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ দমকলের ৪ সেপ্টেম্বরের উচ্ছেদ নির্দেশ খারিজ করে। আদালত জানায়, তৃণমূলের ৩ সেপ্টেম্বরের জবাবটি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে পরিদর্শন করতে হবে। নতুন পরিদর্শনে কোনও অগ্নিনিরাপত্তাজনিত সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৃণমূলকে তা জানিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।
ফলে আপাতত ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের অবস্থান নিয়ে কোনও তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের পরিস্থিতি নেই। তবে ভবিষ্যতে নতুন পরিদর্শনে কী উঠে আসে এবং অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, তার উপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, ভবনের মালিকপক্ষের সঙ্গে দখল ও চুক্তি সংক্রান্ত যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সেটি আলাদা আইনি বিষয়। ২০২০ সালের চুক্তির শর্ত মানা হয়েছে কি না এবং অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহারের অভিযোগের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াই শেষ কথা বলবে। তাই ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা এবং মালিকানা-দখল সংক্রান্ত বিরোধ—দুই ক্ষেত্রেই এখন নজর আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপে।



