আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন মামলায় তদন্তের নতুন পর্ব শুরু হতে চলেছে। মামলার তদন্তে নতুন করে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন সদস্যের সিট তৈরি করতে হবে এবং সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বেই চলবে পরবর্তী তদন্ত।
হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধু ঘটনার রাত নয়— চিকিৎসকের ডিউটিতে যাওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্য পর্যন্ত গোটা ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখা হবে। আদালত জানিয়েছে, তদন্তে প্রয়োজন হলে মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত দিক পুনরায় পরীক্ষা করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নাইট শিফটে থাকা অবস্থায় তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে ধর্ষণ ও খুনের। প্রথমে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ এবং পরে এক সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
মামলার বিচারপর্বে সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালত এবং তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবারের দাবি ছিল, এই ঘটনায় আরও ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে এবং তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে মামলাটি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদন্তের অগ্রগতি ও আগের তদন্তপর্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই আবহেই আদালত জানতে চেয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে।
শুনানিতে সিবিআইয়ের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৭০ থেকে ৮০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তবুও আদালত তদন্তের বিস্তৃতি এবং ঘটনাক্রম পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
নতুন সিট তদন্তে প্রশাসনিক বা প্রভাবশালী স্তর থেকে কোনও নির্দেশ বা হস্তক্ষেপ হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে আদালতের আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ এখনও সামনে আসেনি।
মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ জুন। ওই দিন কলকাতা হাই কোর্টে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেবে নতুন সিট। এখন নজর— নতুন তদন্তে সামনে আসে কি নতুন তথ্য।



