হরমুজে টর্পেডো হামলা, ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু! ভারতমুখী জাহাজে ভয়াবহ হামলা

হরমুজ প্রণালীর কাছে ওমান উপকূলে ভারতমুখী MV Cape Dao জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। FSUI-এর দাবি, জাহাজে দুটি টর্পেডো আঘাত করেছিল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মাসকাট: হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ওমান উপকূলে ভারতমুখী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় মৃত্যু হল এক ভারতীয় নাবিকের। MV Cape Dao নামের জাহাজটিতে হামলার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা সুরজ যাদবের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। জাহাজটিতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন বলে দূতাবাস জানিয়েছে।

ঘটনাটি বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর। ওমানের মাসিরাহ নয়, মুসান্দাম গভর্নরেটের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে MV Cape Dao-কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ওমানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলার পর জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। রয়্যাল নেভি অব ওমানের অভিযানে ২৭ জন ক্রুকে উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হামলার ধরন নিয়ে এখনও পুরোপুরি সরকারি ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। Forward Seamen’s Union of India (FSUI)-র দাবি, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত করে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি টর্পেডো জাহাজের পোর্ট সাইডের C-ডেকের আবাসিক অংশে এবং অন্যটি ইঞ্জিন রুমের কাছাকাছি অংশে আঘাত করে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতীয় দূতাবাসের বিবৃতিতে হামলার কথা বলা হলেও টর্পেডোর কথা নিশ্চিত করা হয়নি। দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাহাজের বাকি ক্রুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মৃত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কী হয়েছিল MV Cape Dao-তে?

Antigua and Barbuda-র পতাকাবাহী bulk carrier MV Cape Dao Mina Saqr থেকে ভারতের দিকে যাচ্ছিল। সেই যাত্রাপথেই ওমানের কাছে জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। Hindustan Times-এর প্রতিবেদনে FSUI-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জাহাজের পোর্ট সাইডে দুটি আঘাত লাগে এবং তার জেরে আবাসিক এলাকা ও ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিকের নাম সুরজ যাদব। FSUI জানিয়েছে, তিনি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাসিন্দা এবং জাহাজে wiper হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও।

ক্রু সদস্যের সংখ্যা নিয়েও রিপোর্টে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ওমানি সংবাদমাধ্যম এবং ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা ২৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে ১৯ জন ভারতীয়। অন্যদিকে FSUI জানিয়েছে, মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে ২০ জন ভারতীয়।

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন

এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলপথে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কাছাকাছি এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার খবর সামনে এসেছে।

FSUI এই ঘটনার পর বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ যাতায়াতের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা এবং ঘটনার দায় নির্ধারণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং Recruitment and Placement of Seafarers (RPSL) সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। মৃত নাবিকের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে হামলাটি কে চালিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাই হামলার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বলা যাচ্ছে না। টর্পেডো ব্যবহারের তথ্যটিও আপাতত FSUI-এর দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; ভারতীয় সরকারি বিবৃতিতে শুধু জাহাজে হামলা এবং এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

হরমুজ ও ওমান উপকূল দিয়ে চলাচলকারী ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তাই ঘটনাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতমুখী একটি জাহাজে হামলা এবং একজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত ও হামলার প্রকৃত কারণের দিকে নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন