৫ গোল হজম করে বিস্ফোরক মন্তব্য হাবাসের, ‘এই দল আমার নয়’

চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে পাঁচ গোল হজমের পর ইস্টবেঙ্গলের কোচ হাবাসের দল নির্বাচন নিয়ে সমর্থকদের ক্ষোভ। ম্যাচের সম্পূর্ণ দায় নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মরশুমের শুরুতে যে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal FC) ঘিরে সমর্থকদের মনে নতুন করে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, সেই দলের এমন হাল কেন? চেন্নাইয়িন এফসির (Chennaiyin FC) বিরুদ্ধে ৫ গোল হজম করার পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে। শনিবারের এই লজ্জাজনক হারের পর কোচ অস্কার ব্রুজো হাবাসের (Oscar Bruzon Habas) কৌশল ও দল নির্বাচন নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, কোচের পদত্যাগের দাবিও তুলছেন সমর্থকদের একাংশ। আর ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কার্যত হতাশা প্রকাশ করে হাবাসের মন্তব্য, ‘এই দল আমার নয়।’

ডুরান্ড কাপ জয়ের পর ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। এএফসি প্রতিযোগিতায় ভালো ফলের আশাতেও বুক বেঁধেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম একাদশ নির্বাচন এবং বিদেশি ফুটবলারদের ব্যবহার নিয়ে কোচের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল সমর্থকদের একাংশের মধ্যে। চেন্নাইয়িনের কাছে পাঁচ গোলের হারের পর সেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

- Advertisement -

ম্যাচের পর হাবাসও স্বীকার করেছেন, মাঠে নামা দলটিকে তাঁর পরিচিত ইস্টবেঙ্গল বলে মনে হয়নি। তাঁর কথায়, “আজকের দলটা আমার পরিচিত দল নয়। এটা আমার দল নয়। আজকের পারফরম্যান্স একটা দুর্ঘটনা। আশা করি, এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।” অর্থাৎ, দলের এমন বিপর্যয়ে কোচ নিজেও যে প্রবল হতাশ, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।

শুধু গোল হজম করাই নয়, খেলার প্রায় প্রতিটি বিভাগেই ইস্টবেঙ্গলকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন কোচ। বলের দখল ধরে রাখা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত লড়াই দেখাতে পারেনি লাল-হলুদ ব্রিগেড।

হাবাসের কথায়, “এই ফলাফলটা মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু তার থেকেও বড় সমস্যা হল, আমরা কোনও ক্ষেত্রেই জিততে পারিনি। বলের দখল নিয়ে লড়াইয়েও জিততে পারিনি। এভাবে ম্যাচ জেতা অসম্ভব। আমাদের মানসিকতা অত্যন্ত শিথিল ছিল। প্রতিপক্ষকে আমরা অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছি।”

হারের সম্পূর্ণ দায় নিলেন কোচ, ফুটবলারদের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত

দলের এমন বিপর্যয়ের পর দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। বরং হারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিয়েছেন তিনি। হাবাস জানিয়েছেন, দ্রুত ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং মানসিকতার উন্নতি জরুরি।

- Advertisement -

শনিবারের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা যেমন সামনে এসেছে, তেমনই মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। গোলকিপার থেকে ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার থেকে স্ট্রাইকার—সামগ্রিকভাবে কোনও বিভাগই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। দল যে সংগঠিত ফুটবল খেলতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটাও স্বীকার করেছেন কোচ।

ইস্টবেঙ্গলের এই হারের পর প্রশ্ন উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির অনুপস্থিতি কি দলের রক্ষণে বড় প্রভাব ফেলেছে? তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ হাবাস। তাঁর মতে, একজন ফুটবলার না থাকাকে দলের সামগ্রিক ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখার কোনও সুযোগ নেই।

কোচের বক্তব্য, কোনও একজন ফুটবলারের অনুপস্থিতি দিয়ে পাঁচ গোল হজমের ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। গোটা দলকেই নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে এবং দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

পরপর ম্যাচ এবং দীর্ঘ যাতায়াতের ধকলও দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন হাবাস। ফুটবলারদের শারীরিক ক্লান্তি ও প্রস্তুতির সমস্যার প্রসঙ্গ উঠলেও সেটাকে হারের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি তিনি।

ডুরান্ড কাপ জয়ের পর যে ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া হয়েছিল, পাঁচ গোলের এই হার সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। এখন দ্রুত ভুল শুধরে দলকে ছন্দে ফেরানোই কোচের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সমর্থকদের কাছে শুধু একটা ম্যাচে হার নয়, দলের ধারাবাহিকতা এবং কোচের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর