টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেছেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ সামি। শুক্রবার রাতে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসতেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। ৩৬ বছর বয়সি এই পেসারের লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর খবরে হতাশ বহু ক্রিকেটপ্রেমী। অনেকেরই প্রশ্ন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার পরেও কেন জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেলেন না সামি? এবার সেই আক্ষেপই প্রকাশ্যে আনলেন বাংলা ক্রিকেট দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
সামির অবসরের সিদ্ধান্তে যে তিনি খুশি নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন লক্ষ্মী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রিয় ক্রিকেটারকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেখানে সামির লড়াই, পরিশ্রম এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশংসা করার পাশাপাশি জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন না হওয়া নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বাংলার কোচ।
সামির অবসর নিয়ে কী বললেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা?
লক্ষ্মীরতন শুক্লার ইচ্ছা ছিল, ভারতের টেস্ট দলে ফিরে আসার পর অবসর নেবেন মহম্মদ সামি। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল ভারতের হয়ে সামির শেষ টেস্ট ম্যাচ। তারপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে নিয়মিত খেলে গিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে বাংলার হয়ে মাঠে নেমেছেন সামি। জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে অনুশীলন ও পরিশ্রম চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর এই লড়াই এবং ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতায় মুগ্ধ লক্ষ্মীরতন।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিয়োয় লক্ষ্মী বলেন, ‘এত কিছুর পরেও গত দু’বছর ধরে রঞ্জি ট্রফি, মুস্তাক আলি এবং বিজয় হাজারেতে বাংলার হয়ে খেলা ও অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছ। তুমি সেরা, সামি। শুধুমাত্র জাতীয় দলে কামব্যাকই তো চেয়েছিলে তুমি। আমরাও চেয়েছিলাম সেখান থেকেই অবসর নাও। কিন্তু ঈশ্বরের হয়তো অন্য পরিকল্পনা ছিল।’
সামির পরিশ্রমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলার কোচ
শুধু অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েই আক্ষেপ নয়, সামির পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার পরেও ঘরোয়া ক্রিকেটে সামি যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল।
লক্ষ্মীর কথায়, ভারতের হয়ে টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত ম্যাচ খেলার পরেও ঘরোয়া ক্রিকেটে একজন পেসারের এমন পরিশ্রম খুব কমই দেখেছেন তিনি। সামির এই মানসিকতা এবং লড়াইকে বিশেষভাবে কুর্নিশ জানিয়েছেন বাংলা দলের কোচ।
২০২৩ সালের পর আর টেস্টে দেখা যায়নি সামিকে
ভারতের হয়ে শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। এরপর জাতীয় দলের টেস্ট পরিকল্পনায় আর জায়গা হয়নি তাঁর। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন সামি। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের আশায় নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।
তাই সামির অবসরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের বিচারে সামির আরও সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। লক্ষ্মীরতন শুক্লার বক্তব্যেও সেই আক্ষেপের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, সামির টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো শুধু একজন অভিজ্ঞ পেসারের কেরিয়ারের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বাংলার ক্রিকেট মহলেও আবেগের মুহূর্ত তৈরি করেছে। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন পূরণ না হলেও বাংলার হয়ে তাঁর লড়াই এবং পরিশ্রম যে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন সতীর্থ ও ক্রিকেটপ্রেমীরা, লক্ষ্মীর বার্তায় সেই কথাই আরও একবার স্পষ্ট হল।



