রঞ্জি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করেও ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না বাংলা। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। সোমবার প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলার ব্যাটিং। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা কেউই বড় রান করতে পারলেন না। একমাত্র লড়াই করলেন অভিষেক পোড়েল। তবে বাংলার ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বল হাতে জবাব দিলেন মহম্মদ শামি। তাঁর জোড়া উইকেটে প্রথম দিনের শেষে চাপে মহারাষ্ট্রও।
এক বছর পর ইডেনে রঞ্জি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র। শুরু থেকেই বাংলার ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করেন মহারাষ্ট্রের বোলাররা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৬.৫ ওভারেই শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। দিনের শেষে মহারাষ্ট্রের সংগ্রহ ৮ ওভারে ২১ রান, ২ উইকেট। অর্থাৎ বাংলার থেকে এখনও ১২২ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।
বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় প্রথম থেকেই। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ মাত্র ১০ রান করে ফিরে যান। এরপর অঙ্কুর পালও ১ রানের বেশি করতে পারেননি। সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালকে উপরের দিকে তুলে আনার সিদ্ধান্তও কাজে আসেনি। তিনি কোনও রান না করেই আউট হন।
সুদীপ কুমার ঘরামি ১৯ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অন্যদিকে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাটিং ব্যর্থতা অব্যাহত। এদিন তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৭ রান। ফলে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা।
এই পরিস্থিতিতে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েল। ৬৭ বলে ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে আটটি চার। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় বড় জুটি গড়ে ওঠেনি।
অভিষেককে কিছুটা সঙ্গ দেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ৪৩ বলে ৩১ রান করেন তিনি। কিন্তু এই দুই ব্যাটার ছাড়া বাংলার আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানেই শেষ হয় বাংলার প্রথম ইনিংস।
ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে শুরুটা ভালো করেছে বাংলা। মহারাষ্ট্রের ইনিংস শুরু হতেই আক্রমণে আসেন মহম্মদ শামি। নিজের অভিজ্ঞতা ও গতির সাহায্যে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি।
প্রথমে মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক পৃথ্বী শ-কে ফেরান শামি। ২১ বলে ১২ রান করে বোল্ড হন পৃথ্বী। এরপর দিগ্বিজয় পাটিলকেও রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরান বাংলার তারকা পেসার। মাত্র এক বল খেলেই আউট হন তিনি।
শামির এই জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরার আশা দেখছে বাংলা। দিনের শেষে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের স্কোর ৮ ওভারে ২১/২। উইকেটে রয়েছেন সিদ্ধেশ বীর ও অঙ্কিত বাওনে।
ইডেনে প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ করে দিতে হয়। দুপুরের দিকে খারাপ আলোর কারণে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা।
ফলে বাংলার বোলাররা আরও বেশি সময় মহারাষ্ট্রের ব্যাটিংয়ের উপর চাপ তৈরি করার সুযোগ পাননি। তবে মাত্র ১৪৩ রানের জবাবে দুই উইকেট তুলে নেওয়া বাংলার কাছে কিছুটা স্বস্তির।



