সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট, শেষ ৫ মিনিটে ২ গোল! ঘরের মাঠে আল-সিবের কাছে হার ইস্টবেঙ্গলের, কঠিন নকআউটের অঙ্ক

AFC Champions League Two-তে যুবভারতীতে আল-সিবের কাছে ০-২ গোলে হারল ইস্টবেঙ্গল। ৮৫ মিনিটে অ্যাক্সেল মেইয়ে ও সংযুক্ত সময়ে জাহির আল আগবারির গোলে জয় ওমানের দলের। চার ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শেষ স্থানে হাবাসের দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র (AFC Champions League Two) গ্রুপ ডি-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঘরের মাঠে ওমানের আল-সিবের কাছে ০-২ গোলে হারল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারল না আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের দল। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে অ্যাক্সেল মেইয়ে এবং সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে জাহির আল আগবারির গোলে জয় নিশ্চিত করে আল-সিব। এই হারের ফলে গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের আগে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে কার্যত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ল লাল-হলুদ।

ম্যাচের ফলাফল:

- Advertisement -

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে ইস্টবেঙ্গল। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। এরপর দানি রামিরেজ়, মহম্মদ রশিদদের আক্রমণেও গোল আসেনি। একাধিকবার আল-সিবের রক্ষণ ভাঙলেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের অভাবে পিছিয়ে পড়ে লাল-হলুদ।

- Advertisement -

ম্যাচের ১৭ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের সমস্যায় মাঠ ছাড়তে হয় আনোয়ার আলিকে। তাঁর পরিবর্তে সন্দীপ মান্ডিকে নামাতে বাধ্য হন হাবাস। এতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ সাজানোয় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়। প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে ইস্টবেঙ্গল সক্রিয় থাকলেও গোলের খাতা খোলেনি কোনও দল। বিরতিতে ম্যাচের ফল ছিল ০-০।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৪৯ মিনিটে আল-সিবের অ্যাক্সেল মেইয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালাতে থাকে হাবাসের দলও। ৬০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গার পরিবর্তে নামানো হয় আকে লোবাকে এবং জিকসন সিংয়ের জায়গায় আসেন রোহিত কুমার।

কিন্তু পরিবর্তনেও ছবিটা বদলায়নি। ৬১ মিনিটে গোল করার সহজ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন দানি রামিরেজ়। তাঁর শট আটকে দেন আল-সিবের গোলরক্ষক ইব্রাহিম সালেহ আল মুখাইনি। ৭১ মিনিটে আবার পরিবর্তন করেন হাবাস। এডমুন্ড লালরিন্ডিকা ও বিপিন সিংকে তুলে লুকাজ় জ়লনস্কি এবং হার্দিক ভাটকে মাঠে নামানো হয়। অন্যদিকে ৭৬ মিনিটে ফুরবা লাচেনপার গুরুত্বপূর্ণ সেভে গোল হজম করা থেকে বাঁচে ইস্টবেঙ্গল।

শেষদিকে ভেঙে পড়ল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ: ম্যাচের ৮৫ মিনিটে অবশেষে গোলের মুখ খোলে আল-সিব। অ্যাক্সেল মেইয়েরের শটে এগিয়ে যায় ওমানের দল। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরানোর জন্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগেই পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ায় আল-সিব।

সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে অ্যাক্সেল মেইয়েরের পাস থেকে বল পান বক্সের বাঁ দিকে থাকা জাহির আল আগবারি। সামনে গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপাকে একা পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে আল-সিব।

গ্রুপের অঙ্কে আরও চাপে ইস্টবেঙ্গল: এই হারের ফলে চার ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট দাঁড়াল ২। গ্রুপ ডি-তে দলটি এখন শেষ স্থানে। অন্যদিকে আল-সিব চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখনও গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ বাকি। কিন্তু শুধু নিজেদের বাকি ম্যাচগুলিতে জয় পেলেই হবে না, অন্য দলগুলির ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে হাবাসের দলকে। ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই হার লাল-হলুদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সমীকরণকে অনেকটাই কঠিন করে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর