বয়স মাত্র ১৫। অথচ এর মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। আইপিএল থেকে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট—সব জায়গাতেই নিজের ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখিয়েছে এই কিশোর। এমনকি দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বও পেয়েছিল সে। কিন্তু এত কম বয়সে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া কি ঠিক সিদ্ধান্ত? এবার সেই প্রশ্নেই নিজের মতামত জানালেন ক্রিকেট কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। তাঁর মতে, বৈভবকে এখনই নেতৃত্বের দায়িত্বে না ঠেলে দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত।
বৈভবের নেতৃত্ব নিয়ে কী বললেন সচিন?
সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Reddit-এ ‘Ask Me Anything’ বা AMA অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন সচিন। সেখানে ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এক ভক্ত জানতে চান, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভব সূর্যবংশীকে দলীপ ট্রফিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তাঁর কী মত?
উত্তরে সচিন লেখেন, “আমার মনে হয়, দলীপ ট্রফিতে ওকে সহ-অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তটা একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছে। আগে ওকে লাল বলের ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। একবারে একটি ধাপ পেরিয়ে এগোনো উচিত!”
অর্থাৎ, বৈভবের প্রতিভা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না তুললেও তাঁর ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা বাড়ানোর উপরেই জোর দিয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে নিজেকে আরও তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চল দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল বৈভবকে। দলের অধিনায়ক ছিলেন ঈশান কিষান। তবে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ঈশান চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে গেলে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলাতে হয় বৈভবকে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে এমন দায়িত্ব পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কারণ, পূর্বাঞ্চল দলে বৈভবের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও ছিলেন। তবু নির্বাচকেরা তাঁকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
সেই দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা বৈভবের ক্রিকেটজীবনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সচিনের বক্তব্য, নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার আগে দীর্ঘ ফরম্যাটে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া দরকার তরুণ ব্যাটারের।
আইপিএলে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে অল্প বয়সেই নজর কেড়েছে বৈভব। এরপর ভারতের সিনিয়র টি-টোয়েন্টি দলেও অভিষেক হয়েছে তার। কিন্তু জাতীয় দলে এখনও নিয়মিত জায়গা পাকা করতে পারেনি এই তরুণ ওপেনার।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খুব বেশি সুযোগ পায়নি সে। সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়ে ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিল বৈভব। কিন্তু পরের ম্যাচগুলিতে আবারও প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি তার।
এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের প্রত্যেককে খুশি করা কোচের কাজ নয়। বরং দলের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ভালো পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদেরও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অভিজ্ঞতা রয়েছে সচিনের নিজেরও। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটার হয়ে উঠেছেন তিনি।
তাই বৈভবের মতো প্রতিভাবান কিশোরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচিনের পরামর্শ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, শুধু প্রতিভার জোরে দ্রুত দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ধাপে ধাপে অভিজ্ঞতা অর্জন করুক বৈভব। লাল বলের ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলুক, নিজের খেলা পরিণত করুক। তারপর আসুক নেতৃত্বের মতো বড় দায়িত্ব।
এখন প্রশ্ন, ভারতীয় ক্রিকেটের এই উঠতি তারকাকে আগামী দিনে কীভাবে তৈরি করে টিম ম্যানেজমেন্ট? ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও কি ধীরে ধীরে দেওয়া হবে তাকে? নাকি আপাতত শুধুই নিজের খেলায় মন দেওয়ার সুযোগ পাবে বৈভব? সচিনের মন্তব্যের পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হল।



