টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে একদিনের ক্রিকেটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ভারতীয় দলের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ODI-তে ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শুবমান গিলের ভারত। দলের জয়ের অন্যতম নায়ক বিরাট কোহলি। ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলার পথে সচিন তেন্ডুলকরকে টপকে ODI ক্রিকেটে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হওয়ার নজির গড়লেন তিনি।
প্রথমে ব্যাট করে ভারতের বোলারদের দাপটে মাত্র ১৮৫ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পদ্ধতিতে ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ১৪৩ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে ২২.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। পাঁচ উইকেট হারালেও লক্ষ্যে পৌঁছতে কোনও সমস্যা হয়নি গিলদের।
বুধবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে (Eden Park) বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে গেলেও ভারতের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ১৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই রোহিত শর্মার উইকেট হারায় ভারত। কিন্তু এরপর বিরাট ও শুবমান গিলের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ১১৩ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
সচিনকে টপকে কোহলির নতুন বিশ্বরেকর্ড
এই ম্যাচে বিরাট কোহলির ৭৪ রানের ইনিংস শুধু ভারতের জয় নিশ্চিত করেনি, ব্যক্তিগত রেকর্ডের খাতাতেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ODI ক্রিকেটে রান তাড়া করতে নেমে সর্বাধিক রান সংগ্রহের নজির এখন তাঁর দখলে। এতদিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। তাঁকে পিছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন কোহলি।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রান তাড়া করতে নেমে কোহলির সংগ্রহ ৮৭৪১ রান। সচিনের সংগ্রহ ছিল ৮৭২০ রান। অর্থাৎ মাস্টার ব্লাস্টারকে ২১ রানে পিছনে ফেলেছেন বিরাট।
পরিসংখ্যানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে। কোহলি মাত্র ১৮০টি ম্যাচের ১৬৯টি ইনিংসে এই রান করেছেন। অন্যদিকে, সচিনের ৮৭২০ রান এসেছিল ২৪২টি ম্যাচের ২৩২টি ইনিংস থেকে। রান তাড়া করার ক্ষেত্রে কোহলির ব্যাটিং গড় ৬৬.২১ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৫.০৩। সচিনের ক্ষেত্রে এই দুই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৪২.৩৩ ও ৮৮.৪৪।
এদিনের ইনিংসের সুবাদে ODI ক্রিকেটে নিজের ৮০তম অর্ধশতরানও পূর্ণ করেছেন বিরাট। আগামী ৫ নভেম্বর তাঁর ৩৮তম জন্মদিন। তার ঠিক আগের দিনই এমন একটি ঐতিহাসিক ইনিংস উপহার দিলেন ভারতীয় দলের তারকা ব্যাটার।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। মেঘলা আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে রাখেন ভারতীয় বোলাররা। নির্ধারিত ইনিংস শেষ হওয়ার আগেই ৪০.২ ওভারে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউয়ি দল।
ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং চারটি উইকেট তুলে নেন। গুরনূর ব্রার তিনটি এবং অংশুল কম্বোজ দুটি উইকেট পান। বিশেষ করে কম্বোজের নিয়ন্ত্রিত বোলিং নিউজিল্যান্ডের রান তোলার গতি আটকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন টিম সেইফের্ট। গ্লেন ফিলিপসের সংগ্রহ ৩০ রান। শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনার মাত্র ২৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও দলের রান ২০০-র গণ্ডি পার করাতে পারেননি।
এই জয়ে শুধু বিরাট কোহলির ব্যাটিং নয়, ভারতের বোলিং বিভাগও প্রশংসা পেয়েছে। ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন অংশুল কম্বোজ। তাঁর ১০ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পারফরম্যান্স ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ধাক্কা কাটিয়ে ODI সিরিজে আত্মবিশ্বাসী শুরু করল ভারত। তবে প্রথম ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে বিরাটের নতুন রেকর্ড। সচিনের দীর্ঘদিনের নজির ভেঙে আবারও প্রমাণ করলেন, রান তাড়া করার ক্ষেত্রে তাঁর ধারেকাছে পৌঁছনো কতটা কঠিন।



