কর্নাটকে (Karnataka) এইচআইভি (HIV) সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্যে ৭ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী HIV পজ়িটিভ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সচেতনতা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে কর্নাটক সরকার। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত পড়ুয়াদের মধ্যে কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই উল্লেখযোগ্য। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উচ্চশিক্ষা দফতর এবং স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে নিয়মিত HIV সচেতনতা শিবির, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শদান (Counselling) এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় HIV পরীক্ষা (Voluntary Testing)-এর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নিরাপদ যৌনস্বাস্থ্য, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং কুসংস্কার দূর করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক সহায়তাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক বা ভয়ের কারণে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে চান না। তাই কলেজ ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, HIV একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা মূলত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং গর্ভাবস্থা, প্রসব বা স্তন্যপানের সময় মা থেকে সন্তানের শরীরে ছড়াতে পারে। তবে সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, আলিঙ্গন বা একই শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করার মাধ্যমে HIV ছড়ায় না।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে আধুনিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)-এর মাধ্যমে HIV আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই দ্রুত পরীক্ষা, সময়মতো চিকিৎসা শুরু এবং নিয়মিত ফলো-আপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্নাটক সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্য বা সামাজিক কলঙ্ক কমানো। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যভিত্তিক শিক্ষা ও সহজলভ্য কাউন্সেলিং তরুণ সমাজকে আরও সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



