‘রাত দুটো পর্যন্ত মোবাইল!’ পড়ুয়াদের আসক্তি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত শুভেন্দুর, স্কুলে NCC ফেরানোর ডাক

স্কুল পড়ুয়াদের মোবাইল আসক্তি নিয়ে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পড়ুয়াদের চরিত্র গঠনে NCC ও ব্রতচারীর মতো কার্যক্রম ফেরানোর পক্ষেও সওয়াল করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোনের বাড়তে থাকা আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিক্ষক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে নিউ টাউন থেকে তিনি দাবি করেন, রাত গভীর পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস পড়ুয়াদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি বদলাতে প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক শিশু ও কিশোর রাত দেড়টা-দুটো পর্যন্ত জেগে মোবাইল দেখে। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ার পরেও লুকিয়ে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে গুজরাতের উদাহরণও টানেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বাংলাতেও এই ধরনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা উচিত বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে পড়ুয়াদের দূরে রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এই ধরনের অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না আনা গেলে শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।

তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, শিক্ষা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু সিদ্ধান্তে অযথা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। পড়ুয়াদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার সময় রাজনীতি নয়, বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।

শুধু মোবাইল আসক্তি নয়, পড়ুয়াদের চরিত্র গঠন এবং বইয়ের বাইরের শিক্ষার উপরেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রাখলে তাদের সামগ্রিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হবে।

এই সূত্রেই স্কুলে ফের NCC চালুর কথা বলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি ব্রতচারীর মতো কার্যক্রমও স্কুলশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতেও পড়াশোনার পাশাপাশি এই ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় অতীতে একাধিক ভুল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের স্কুলগুলির ফলাফলের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, তাঁর নিজের জেলায় গত কয়েক বছর ধরে পাশের হার উল্লেখযোগ্য।

নিজের ছাত্রজীবনের প্রসঙ্গও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রভাত কুমার কলেজে পড়ার সময় বিতর্কসভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ থেকে স্কুলে NCC ও সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা—শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে একাধিক বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন এই বক্তব্যের পর পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে কোনও নির্দিষ্ট নীতি বা স্কুলভিত্তিক নির্দেশিকা সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন