কলকাতা পুরসভায় ফের রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের। একের পর এক পদত্যাগের আবহে এবার পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পারিষদ বোর্ড থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেছিলেন। পরে ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরে দাঁড়ান সুশান্ত ঘোষ। একই দিনে মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির দায়িত্ব ছেড়ে দেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী।


এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার এক মেয়র পারিষদের পদত্যাগের খবর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতার নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুরসভার অন্দরে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং মতভেদের খবর সামনে এসেছে। একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারই মধ্যে বিধানসভায় সই জালিয়াতি বিতর্ক নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসক শিবিরের।
উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত ভট্টাচার্য এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানোর পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বড় আকার নেয়। পরে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। কিন্তু তাতেও দলের অভ্যন্তরীণ চাপ কমেনি বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।


তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত ভট্টাচার্য দাবি করেন, ৬ মে অনুষ্ঠিত পরিষদীয় দলের বৈঠক নিয়ে যে সরকারি বক্তব্য সামনে এসেছে, তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই। তাঁর অভিযোগ, ওই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়া হয়নি। পরবর্তী বৈঠকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হলেও আগের তারিখ ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সই জালিয়াতি বিতর্কে মোট ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিআইডি তদন্তে অন্তত তিনজন বিধায়ক স্বীকার করেছেন যে তাঁদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছিল। তবে যাঁদের নাম এই বিতর্কে উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আবার প্রকাশ্যে জাল সইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে যখন দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন কলকাতা পুরসভায় ধারাবাহিক পদত্যাগ তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



