তারাতলা কাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে টানা তিন দিনের বেশি পুলিশ হেফাজতে থাকার পর কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalicharan Bandyopadhyay)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হল। সরকারি পরিষেবা বিধি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে এবং নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই তিনি পুনরায় চাকরিতে ফিরতে পারবেন।
তারাতলা কাণ্ডের তদন্তে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি হেফাজতে থাকলে সাসপেনশনের বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসারেই কলকাতা পুরসভা তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ জারি করেছে।
কালীচরণের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্যে। বিধানসভায় নথি তুলে ধরে তিনি দাবি করেছিলেন, কালীচরণ পুরসভার বিভিন্ন নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কলকাতার (Kolkata) বহু বিল্ডিং পরিকল্পনার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কালীচরণের প্রভাব ছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।
গ্রেপ্তারের পর গত রবিবার তদন্তকারী বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর হাওড়া (Howrah)-র বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের অনুমান ছিল, সেখানে নির্মাণ পরিকল্পনা বা অনুমোদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি মিলতে পারে, যা তদন্তে সহায়ক হতে পারে।
তদন্ত চলাকালীন কালীচরণকে একাধিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি। নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের প্রক্রিয়া, অনুমোদনের পর নজরদারির ব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং কারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন— এমন নানা বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিশেষ কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি।
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মজীবনও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ২০০৩ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে যোগ দেন। পরে ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে পুলিশে যোগ দিলেও প্রশিক্ষণ চলাকালীন সেই চাকরি ছেড়ে ফের আগের দপ্তরে ফিরে যান।
সূত্রের দাবি, ২০১০ সাল থেকে তিনি কলকাতা পুরসভায় কাজ শুরু করেন। সেই সময় ফিরহাদ হাকিম মেয়র পারিষদ ছিলেন। পরে মেয়র হওয়ার পর কালীচরণকে নিজের ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব দেন। পুরসভার অন্দরে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী আধিকারিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলেও কর্মীদের একাংশের দাবি। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের উপরই নির্ভর করবে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।






