তারাতলা গুদাম দুর্ঘটনা (Taratala Warehouse Collapse) ঘিরে সামনে এল নতুন মোড়। নির্মীয়মাণ গুদামের নকশা অনুমোদনের সরকারি নথিতে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-এর স্বাক্ষর রয়েছে বলে প্রকাশ্যে এসেছে তথ্য। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪, আর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, গুদাম নির্মাণের নকশায় ত্রুটি ছিল। সেই সময় তিনি একটি সরকারি নথিও তুলে ধরেন, যেখানে উল্লেখ রয়েছে যে নির্মাণবিধি লঙ্ঘন হয়নি এবং গুদাম নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
সামনে আসা ওই নথিতে দেখা যাচ্ছে, চারতলা গুদাম নির্মাণের অনুমোদনের পাশাপাশি শেষ পর্যায়ে উল্লেখ রয়েছে যে নির্মাণে কোনও অনিয়ম নেই। নথিতে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-র নির্মাণ বিভাগের ডিরেক্টর, পুর কমিশনার এবং তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়মের জেরেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও অভিযোগের সময় বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন না ফিরহাদ।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, নির্মাণ পরিকল্পনার প্রযুক্তিগত অনুমোদনের দায়িত্ব মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি (Municipal Building Committee)-র। তাঁর দাবি, বিষয়টি কমিশনারের মাধ্যমে তাঁর কাছে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য আসে এবং প্রযুক্তিগত অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। সংশ্লিষ্ট গুদামের পরিকল্পনা সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন।
তবে এই ব্যাখ্যার পরও আইনি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) প্রাক্তন মেয়র ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya) বলেন, সাধারণত অনুমোদিত নকশায় মেয়রের স্বাক্ষর থাকে না। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার বা পুর কমিশনারের অনুমোদনই কার্যকর হয়। ফলে এই নথিতে স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলেই তাঁর মত।
এদিকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তারাতলা (Taratala)-য় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force – NDRF), পুলিশ, দমকল, সেনা এবং ভারতীয় রেল (Indian Railways)-এর কর্মীরা যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। লোহার বিম কাটতে অক্সিকাটার এবং ভারী ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আহত ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতাল (SSKM Hospital)-এ চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুরসভার নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমিটি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ (Syama Prasad Mookerjee Port, Kolkata)-এর। ২০২৪ সালের অগস্টে ৩০ বছরের লিজে জমিটি দেওয়া হয় বেহরা ব্রাদার্স (Behra Brothers) সংস্থাকে। আবেদনকারী হিসেবে নথিতে সংস্থার অংশীদার শম্ভুনাথ বেহরার নামও রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে। কংক্রিট ও লোহার বিশাল কাঠামোর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। এরপর শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান। এখন নথি প্রকাশ্যে আসার পর নির্মাণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ও দায়বদ্ধতা— দুই নিয়েই তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।








