শত্রুঘ্ন সিনহার স্পষ্ট বার্তা, ‘অভিষেককে নেতা মানি না’, তবে মমতার পাশেই থাকার ইঙ্গিত

তৃণমূলে ভাঙনের আবহে প্রথমবার মুখ খুললেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে না মানার কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শত্রুঘ্ন সিনহা অবশেষে ভাঙলেন নীরবতা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সাংসদদের একাংশের দলবদলের জল্পনার মধ্যে আসানসোলের সাংসদ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি নিজের নেতা বলে মনে করেন না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং সেই কারণেই তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন।

সম্প্রতি তৃণমূলের লোকসভা সংসদীয় দলে ভাঙনের আবহে একাংশের সাংসদ অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শত্রুঘ্ন সিনহার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জানান, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাক্ষাৎকারে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি নিজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেন না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই তাঁকে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একইসঙ্গে দল ছেড়ে যাওয়া সাংসদদেরও সমালোচনা করেন আসানসোলের সাংসদ। তাঁর মতে, যাঁরা দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের সেই সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও কথা বলেন। শত্রুঘ্ন সিনহার বক্তব্য, তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সেই অবদান তিনি অস্বীকার করেন না। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা ও সক্রিয়তারও প্রশংসা করেন তিনি।

তবে বিজেপি ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার পিছনে বিশেষ পরিস্থিতি কাজ করেছিল বলেও ইঙ্গিত দেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তাঁর মতে, সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতাই তাঁকে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।

পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। শত্রুঘ্ন সিনহার দাবি, তাঁর ছেলে কুশ বিজেপির প্রতি আগ্রহী। একইসঙ্গে দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে বৃহত্তর ঐক্যের পথে এগোনোর পরামর্শও দেন তিনি।

তৃণমূলে চলতে থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে না মানার বক্তব্য এবং একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানানো—দুটি বার্তাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন