তারাতলা বিপর্যয়: ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারির দাবি কুণাল ঘোষের, শুভেন্দুর বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

তারাতলা দুর্ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষের বড় দাবি। অভিযোগে সত্যতা থাকলে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে অবিলম্বে গ্রেফতারের আহ্বান, পাশাপাশি তদন্ত নিয়েও তুললেন একাধিক প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, যদি তদন্তে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তবে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ এত গুরুতর হলে এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি।

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মদন মিত্রকে পাশে নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর দাবি, তদন্তে যাঁদের নাম উঠে এসেছে এবং যদি তাঁদের বিরুদ্ধে দায় বা অপরাধের প্রমাণ থাকে, তবে আইনের নিরিখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে একইসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করেন, যদি কোনও অপরাধের প্রমাণ না থাকে, তাহলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চ বা বিধানসভায় কারও নাম উল্লেখ করাও সমীচীন নয়। তাঁর কথায়, বিভিন্ন নথিতে অনেক সময় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। তাই তদন্তের আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা ঠিক হবে না।

কুণাল ঘোষ আরও প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের অনেকেই বর্তমানে নতুন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণেই কি তদন্তের অগ্রগতি বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব পড়ছে? এই প্রশ্নও তিনি প্রকাশ্যে উত্থাপন করেন।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কালী নামে এক প্রাক্তন পুরকর্তার ভূমিকাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা এখনও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া বাকি।

উল্লেখ্য, তারাতলা দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় একটি বিল্ডিং প্ল্যানের নথি প্রদর্শন করে দাবি করেন, ওই নথিতে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ওই পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

তারাতলা বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর যত বাড়ছে, ততই তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন