রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক নতুন মোড় নিল। অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের সদস্য শ্রী কৃষ্ণমোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। অভিযোগে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, টিনু যাদব, অনুকল্প মিশ্র-সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অনুদান ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই কারণেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালে রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের পর থেকে মন্দিরে বিপুল পরিমাণ নগদ অনুদান এবং সোনা-রুপোর অলঙ্কার জমা পড়েছে। রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, এই সম্পদের একটি বড় অংশের হিসাব মিলছে না। শুধু নগদ অর্থ নয়, দান হিসেবে পাওয়া কিছু মূল্যবান সামগ্রীও অনুপস্থিত বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে বর্তমান ট্রাস্টের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে নতুন পরিচালন পর্ষদ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই সুপারিশ নিয়ে এখনও সরকার বা সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা হয়নি।
সিটের রিপোর্ট সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি অলোক কুমার দ্রুত এফআইআর, দ্রুত তদন্ত এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে মামলার নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ভিএইচপির এই প্রকাশ্য অবস্থানও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর রয়েছে।








