ভারতের অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এ প্রাণ উৎসর্গ করা ছয় সেনা ও বায়ুসেনা সদস্যের নাম প্রথমবার প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এক বছর পর তাঁদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এনে মরণোত্তর সম্মান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে তাঁদের নাম খোদাই করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন প্রাণ হারান রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, সুবেদার মেজর পবন কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুড মুরলী নায়েক, হাবিলদার সুনীলকুমার সিংহ এবং ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার। এতদিন তাঁদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এবার কেন্দ্র সরকার সেই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া এই ছয় বীরের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে তাঁদের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে (National War Memorial) খোদাই করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁদের স্মৃতিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধের থ্রি-ডি ওয়ালেও নাম যুক্ত করা হয়েছে।
এই বীরদের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে মরণোত্তর বীর চক্র (Vir Chakra) সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। গত ৮ জুন রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhavan) আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)-র হাত থেকে সেই সম্মান গ্রহণ করেন শহিদ জওয়ানের বাবা-মা। অন্যদিকে, বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে মরণোত্তর বায়ুসেনা পদক (Vayu Sena Medal) প্রদান করা হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে আরও জানানো হয়েছে, মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘর্ষে প্রাণ হারানো দুই সেনাকেও মরণোত্তর বীরের সম্মান দেওয়া হয়েছে। সামরিক ঐতিহ্য মেনেই তাঁদের আত্মত্যাগকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে (Pahalgam) জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্রের দাবি করে ভারত। যদিও পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর পাল্টা অভিযানে অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) শুরু করে ভারতীয় সেনা। এই অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। নতুন প্রকাশিত তালিকা থেকে স্পষ্ট, ওই অভিযানে ভারতীয় স্থলবাহিনী এবং বায়ুসেনার সদস্যরাও প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।








