রাম মন্দির চুরি-কাণ্ডে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াল ভিএইচপি, দ্রুত FIR ও ফাস্ট ট্র্যাক বিচারের দাবি

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে সরব বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। SIT রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অযোধ্যার রাম মন্দির চুরি-কাণ্ড ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি কড়া অবস্থান নিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। মন্দিরে অনিয়ম ও আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগে দ্রুত FIR দায়ের এবং ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে রাম মন্দির সংক্রান্ত অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ওই রিপোর্টে মন্দির পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটির উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা পরীক্ষা থেকে শুরু করে দানবাক্সের অর্থ সংগ্রহ ও হিসাব রক্ষণ— বিভিন্ন স্তরে গাফিলতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার আগে FIR দায়ের হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে ভিএইচপির জাতীয় সভাপতি অলোক কুমার প্রকাশ্যে কড়া মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, তদন্তে যখন অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, তখন অবিলম্বে FIR দায়ের করা উচিত। পাশাপাশি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে প্রতিদিন শুনানির মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অন্য একটি প্রশ্নও। কারণ, মন্দির পরিচালনার যে কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভিএইচপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরও নাম জড়িয়ে রয়েছে। ফলে সংগঠনের এই সক্রিয় অবস্থানকে অনেকেই নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে চম্পত রাই-সহ রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও চূড়ান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাম মন্দির ইস্যু বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে ভিএইচপির প্রকাশ্য চাপ এবং কঠোর অবস্থান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে এলে বিষয়টি আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত মামলার ভবিষ্যৎ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন