উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে। শনিবার সকালে নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হলেও, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এর মধ্যেই রাজনৈতিক যোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন সঞ্জয় দাস। তিনি পুর পারিষদের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। পরিবারের তরফে খবর পাওয়ার পর নাগেরবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে আরেকটি বিষয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সঞ্জয় দাস ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি একাধিক মামলায় দেবরাজের গ্রেপ্তারির পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাপের আবহ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে সঞ্জয় দাস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকেও মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
ঘটনার পর হাসপাতালে পৌঁছন অদিতি মুন্সি। তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই মৃত্যু ঘিরে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গ্রেপ্তারির ভয় বা রাজনৈতিক চাপের কারণে এই মৃত্যু হয়েছে— এমন কোনও তথ্য এখনও সরকারি ভাবে সামনে আসেনি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হিসেবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা যতই বাড়ুক, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।



