বকরি ইদের আগে কুরবানি বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ। ধর্মীয় আচার বনাম সরকারি বিধিনিষেধের টানাপোড়েনের মধ্যে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের পাল্টা সরাসরি কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর বার্তা— বাংলায় থাকতে হলে আইন ও সরকারি নিয়ম মেনেই চলতে হবে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশু জবাই ও প্রকাশ্য কুরবানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ১৩ মে রাজ্য সরকার পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে বিদ্যমান আইন ও নির্দিষ্ট শর্ত মেনে জবাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়। পরে আদালতও সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়নি।


এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) নেতা ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, কুরবানি একটি ধর্মীয় অনুশীলন এবং তা বন্ধ করা যায় না। তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি কুরবানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়, তবে সব কসাইখানার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করলে আপত্তি তৈরি হবে।
এই মন্তব্যের জবাবেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অগ্নিমিত্রা পল বলেন, রাজ্যে বসবাস করতে হলে সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ যদি নিয়ম মানতে না চান, তাহলে অন্যত্র যাওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে; তবে ভারতে থাকলে দেশের আইনই মানতে হবে।
এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই একাধিক মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও ইমাম সম্প্রদায়ের মানুষকে আইন মেনে উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন এবং বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে।


বকরি ইদের আগে এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক— দুই ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন, অন্যদিকে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ— এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হয়, সেটাই এখন দেখার।



