রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই সংগঠনের ভিত শক্ত করতে কড়া অবস্থানে বিজেপি। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৫০ জনের বেশি নেতা–কর্মীর হাতে পৌঁছে গেছে শো–কজ় নোটিশ। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট বার্তা— রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, সংগঠনের নিয়মানুবর্তিতাই এখন দলের প্রথম অগ্রাধিকার।
৪ মে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, স্থানীয় স্তরে চাপ তৈরি এবং সরকারি দফতরে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।


ভোটের ফল প্রকাশের দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্মীদের উদ্দেশে সংযমের বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিবর্তন মানে প্রতিশোধ নয়— বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। পাল্টা হিংসা নয়, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার উপর জোর দেওয়ার নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল সংগঠনকে।
এরপর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে স্পষ্ট করে দেন, দল কোনওভাবেই ‘জবরদখলের রাজনীতি’ মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে অন্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুকরণ করলে তা বিজেপির আদর্শের সঙ্গে যায় না।
দলের অন্দরে প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এই সতর্কবার্তা হয়তো প্রতীকী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপে সেই ধারণা বদলে যায়। অভিযোগ ওঠে, নির্দেশ অমান্য করে কিছু নেতা–কর্মী বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত, সমবায় বা ইউনিয়ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।


সূত্রের দাবি, জেলার বিভিন্ন স্তর থেকে সংগৃহীত রিপোর্টের ভিত্তিতে দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তদন্ত শুরু করে। এরপর একের পর এক শো–কজ় নোটিশ পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি নেতা–কর্মীকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যাচ্ছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তিন জনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, হামলা এবং পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ রয়েছে।
বিজেপি এখন রাজ্যের শাসকদল হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির থেকে নতুন মুখের আগ্রহ বাড়বে— এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই সংগঠনের ভিত পরিষ্কার রাখতে চাইছে নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া’ চালু রেখে দল বার্তা দিতে চাইছে— সংগঠনের ভিতরে বেনোজল প্রবেশ বা শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনওটাই বরদাস্ত করা হবে না।



