বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন বিতর্ক। অভিনেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরও ছবির শুটিংয়ে অংশ না নেওয়া এবং পরে টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হলেন এক প্রযোজক। অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়।
অভিযোগকারী প্রযোজক তরুণ দাস, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে একটি সিনেমার মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সোহমকে অগ্রিম হিসেবে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে শুটিংয়ের জন্য ডেট দেননি অভিনেতা।


প্রযোজকের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ছবির কাজ শুরু করা যায়নি। এর মধ্যেই করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে প্রকল্পটি আরও পিছিয়ে যায়। পরে আর্থিক সমস্যার কারণে ছবির কাজ পুরোপুরি থমকে যায়।
তরুণ দাসের অভিযোগ, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি পুরো অর্থ না চেয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে অভিনেতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগও করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য কলকাতায় ডাকা হলেও সমাধান হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
প্রযোজকের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত পাওয়ার বদলে তাঁকে অপমান করা হয় এবং ভয়ও দেখানো হয়। তাঁর বক্তব্য, এতদিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। সরকার পরিবর্তনের পর আইনি পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


শুক্রবার এই ঘটনায় বালুরঘাট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রযোজকের দাবি, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের চেকের মাধ্যমে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সোহম চক্রবর্তীর তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা গেলে তা এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পরবর্তী অবস্থানের দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



