রেশন ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের পথে দিল্লি সরকার। একদিকে ব্যাপক যাচাই অভিযানে বাতিল করা হয়েছে ৭ লক্ষেরও বেশি রেশন কার্ড, অন্যদিকে আরও বেশি সংখ্যক নিম্ন ও মধ্য-আয়ের পরিবারকে সুবিধার আওতায় আনতে বাড়ানো হচ্ছে রেশন পাওয়ার আয়ের ঊর্ধ্বসীমা। ফলে বহু পরিবারের জন্য নতুন করে রেশন কার্ডের দরজা খুলতে পারে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা অডিট ও তথ্য যাচাইয়ের পর মোট ৭.৭২ লক্ষ অবৈধ বা অযোগ্য রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় দেখা গিয়েছে— প্রায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ব্যক্তি আয়ের শর্ত পূরণ করছিলেন না। এছাড়া ৩৫ হাজার ৮০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তাঁরা কখনও রেশন তোলেননি। আরও ২৯ হাজার ৫৮০ জন মৃত উপভোক্তার নাম তালিকায় ছিল এবং ২৩ হাজার ৩৯৪টি কার্ড ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে আয়ের সীমা নিয়ে। এতদিন দিল্লিতে রেশন পাওয়ার জন্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১.২ লক্ষ টাকা। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ২.৫ লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতিতে বহু নিম্ন আয়ের পরিবার পুরনো আয়ের সীমার কারণে সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আরও বেশি পরিবার রেশন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে পারবে।


মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে দিল্লিতে নতুন রেশন কার্ড ইস্যু হয়নি। এবার বৈধ ও যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য নতুন করে আবেদন করার সুযোগও তৈরি করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সিলমোহর পড়লেই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পথে এগোবে সরকার।
সব মিলিয়ে, একদিকে ভুয়ো উপভোক্তাদের বাদ দেওয়া, অন্যদিকে যোগ্য পরিবারের সংখ্যা বাড়ানো— এই দুই লক্ষ্য নিয়েই দিল্লির রেশন ব্যবস্থায় বড় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত মিলছে।



