অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে ‘স্মার্ট বর্ডার’ তৈরির ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। তাঁর বক্তব্য, শুধু জনবল দিয়ে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি কার্যত সম্ভব নয়। সেই কারণেই প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।


নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে ড্রোন, হাই-রেজলিউশন ক্যামেরা এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিএসএফ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অমিত শাহ জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে সীমান্তকে আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম এই তিন রাজ্যই অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের অবস্থানের সঙ্গে সহমত রয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ চলছে।


এই প্রসঙ্গে বাংলার সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। দাবি করা হয়েছে, সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত জমিজট কাটিয়ে বিএসএফের প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকার সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুসরণের কথাও জানিয়েছে।
এদিকে নাগরিকত্ব এবং সীমান্তনীতি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হবে এবং নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কেন্দ্রের নীতি কার্যকর থাকবে।
সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং অনুপ্রবেশ মোকাবিলার নতুন কৌশল— সব মিলিয়ে আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।



