যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে বহুদিনের বিতর্কের অবসান। ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে ফেলা হল স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি গেটের সামনে থাকা সেই বহুচর্চিত ‘জয়ী’ মূর্তি। নতুন সরকারের আমলে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রতীকী পরিবর্তনের বার্তা হিসেবেই এই পদক্ষেপকে দেখছে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহল।
শনিবার সকালে প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে মূর্তি অপসারণের কাজ সম্পূর্ণ হয়। কয়েক দিন আগেই ডার্বি ম্যাচ দেখতে গিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছিলেন, বর্তমান অবস্থায় ওই মূর্তি রাখা হবে না এবং পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৭ সালে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সংস্কারের সময় এই মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিল। নকশায় দেখা গিয়েছিল পা থেকে কোমর পর্যন্ত মানব অবয়বের উপরে স্থাপিত বিশ্ববাংলা প্রতীক এবং নিচে ফুটবলের উপর লেখা ছিল ‘জয়ী’। সেই সময় এই শিল্পকর্মের নকশা তৈরি করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে মূর্তি স্থাপনের পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, এই প্রতীকের সঙ্গে ক্রীড়া সংস্কৃতির সরাসরি সম্পর্ক কতটা এবং এর নান্দনিক অর্থ কী।
১৭ মে যুবভারতীতে অনুষ্ঠিত কলকাতা ডার্বির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ প্রামাণিক মন্তব্য করেছিলেন যে মূর্তিটি পরিবর্তন করা হবে। তাঁর বক্তব্য ছিল, স্টেডিয়ামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে এমন কিছু আনা প্রয়োজন।
বর্তমানে মূর্তির কাঠামোর বেশিরভাগ অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এলাকায় ফুটবল ও বুটের অংশ দেখা যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, সেখানে ভবিষ্যতে কোনও বিখ্যাত ফুটবলারের মূর্তি বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্রীড়া অবকাঠামোয় প্রতীকী পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত এখন শুধু স্থাপত্য নয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তার দিক থেকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



