স্কুলশিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য। পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে এবার হোমওয়ার্কের সময়সীমা নির্দিষ্ট করা থেকে শুরু করে স্কুল ব্যাগের ওজন বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর। নতুন নির্দেশিকায় ছোটদের জন্য ব্যাগ প্রায় তুলে দেওয়া, আর বড়দের জন্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বই বহনের নিয়ম আনা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে দাবি, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও ছাত্রবান্ধব করতে এবং অতিরিক্ত চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ। এর অংশ হিসেবে স্কুল পরিচালনা ব্যবস্থা, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং দৈনন্দিন শিক্ষার ধরনেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির একটি হল স্কুল ব্যাগের সর্বোচ্চ ওজনসীমা। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও শিক্ষার্থীর ব্যাগের ওজন তাঁর শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
শ্রেণিভিত্তিক ব্যাগের ওজনও নির্দিষ্ট করা হয়েছে—
- প্রাক-প্রাথমিক: কোনও ব্যাগ থাকবে না
- প্রথম–দ্বিতীয় শ্রেণি: ১.৬–২.২ কেজি
- তৃতীয়–পঞ্চম শ্রেণি: ১.৭–২.৫ কেজি
- ষষ্ঠ–সপ্তম শ্রেণি: ২–৩ কেজি
- অষ্টম শ্রেণি: ২.৫–৪ কেজি
- নবম–দশম শ্রেণি: ২.৫–৪.৫ কেজি
- একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি: ৩.৫–৫ কেজি
শুধু ব্যাগ নয়, হোমওয়ার্ক নিয়েও আনা হয়েছে স্পষ্ট নিয়ম। শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।


হোমওয়ার্কের নতুন নিয়ম:
- প্রথম–দ্বিতীয় শ্রেণি: কোনও হোমওয়ার্ক নয়
- তৃতীয়–পঞ্চম শ্রেণি: সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা
- ষষ্ঠ–অষ্টম শ্রেণি: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা (সপ্তাহে ৫–৬ ঘণ্টা)
- নবম–দ্বাদশ শ্রেণি: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা (সপ্তাহে ১০–১২ ঘণ্টা)
এছাড়াও টিফিন বহনের পরিবর্তে মিড-ডে মিল ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে ব্যাগের ওজন কমানো যায় এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টিও নিশ্চিত করা যায়।
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ছোটদের অতিরিক্ত বই, খাতা ও হোমওয়ার্কের চাপ নিয়ে আলোচনা চলছিল। নতুন নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হলে পড়াশোনার ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হতে পারে। এখন নজর থাকবে, স্কুল স্তরে এই নিয়ম কত দ্রুত কার্যকর হয় তার উপর।



