জ্বালানির বাজারে স্বস্তি মিলল না। পেট্রল-ডিজেলের দাম ফের বাড়ল, আর মাত্র ৯ দিনের মধ্যে এটাই তৃতীয় সংশোধন। নতুন দামে কলকাতায় পেট্রল পৌঁছল লিটারপিছু ১১০.৬৪ টাকায়, ডিজেল ৯৭.০২ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেই সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে পরিবহণ ব্যয়ের বোঝা।
শনিবার থেকে কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়েছে ৯৪ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৯৫ পয়সা। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ব্যক্তিগত গাড়ি, বাইক থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এই মাসে জ্বালানির দামের বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নজর কেড়েছে। ১৫ মে প্রথম দফায় এক ধাক্কায় লিটারপিছু ৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৯ মে আরও প্রায় ৯০ পয়সা বৃদ্ধি হয়। সর্বশেষ বৃদ্ধির পর চলতি মাসে মোট বৃদ্ধি প্রায় ৫ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
নতুন দামে দিল্লিতে পেট্রলের মূল্য হয়েছে ৯৯.৫১ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯২.৪৯ টাকায়। দেশের অন্যান্য মহানগরেও একইভাবে মূল্যসংশোধন হয়েছে।
জ্বালানির এই চাপের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়ার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন রিপোর্টে।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কেন্দ্রের বক্তব্য, বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমাতে জ্বালানি ব্যবহারে সংযম প্রয়োজন।
এদিকে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি-র দামও আবার বেড়েছে। প্রতি কেজিতে ১ টাকা বৃদ্ধি হয়ে নতুন দাম হয়েছে ৮১.০৯ টাকা। নয়ডা ও গাজিয়াবাদে সিএনজি বিক্রি হচ্ছে ৮৯.৭০ টাকা প্রতি কেজিতে। যদিও কলকাতায় এখনও পর্যন্ত সিএনজি-র নতুন মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা হয়নি।
জ্বালানির ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু ব্যক্তিগত যাতায়াত নয়, গণপরিবহণ, পণ্য পরিবহণ এবং বাজারদরের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক মহলের। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতিই এখন নজরে রাখছে দেশ।



