তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন যখন চরমে, তখন প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যাধ্যায়ের অবস্থান পরিবর্তন ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর স্ত্রী, তৃণমূল বিধায়ক ও অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়বেন না।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিক্ষুব্ধ সাংসদদের শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কৌতূহল ছিল, স্বামীর পথ অনুসরণ করে তিনিও কি দল ছাড়বেন?
এই জল্পনার মধ্যেই স্পষ্ট ভাষায় নয়না বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে কোথাও যাব না। উনি তাড়িয়ে দিলে অনাথের মতো ঘুরব, তবুও নিজে থেকে দিদিকে ছাড়ব না।” তাঁর এই মন্তব্য কার্যত সমস্ত জল্পনার ইতি টেনে দিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তিনি মন্তব্য করেন, তিনি একা যান না, সঙ্গে আরও একজনকে নিয়ে যান। রাজনৈতিক মহলে সেই মন্তব্যকে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করেই বলা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নয়না বলেন, একজন মহিলা হিসেবে এই ধরনের মন্তব্য তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে। যাঁরা এ ধরনের মন্তব্য করছেন, তাঁদের রুচি ও নারীদের প্রতি সম্মানবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নয়নার বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে রাজনৈতিক কটাক্ষ করা উচিত নয়।
তৃণমূলে নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও দ্ব্যর্থতা রাখতে চাননি নয়না। তিনি বলেন, “আমি দিদির সঙ্গেই আছি। আমার কোনও সমস্যা নেই। আমি কোথাও যাচ্ছি না।” তাঁর দাবি, এই প্রশ্নের উত্তর তিনিই সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে দিতে পারেন, কারণ তিনি এখনও দলের সঙ্গেই রয়েছেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন তিনি। নয়নার কথায়, তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা প্রায় হয় না। রাতের দিকে ফোনে সাধারণ খোঁজখবর, স্বাস্থ্য, ওষুধপত্র ও দৈনন্দিন বিষয় নিয়েই কথা হয়।
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও দলবদলের জল্পনার আবহে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক অবস্থান— এই দুইকে তিনি আলাদা করেই দেখছেন।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই অবস্থান আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



