অভিষেক-কুণালের বাগ্‌বিতণ্ডায় উত্তপ্ত বৈঠক, হস্তক্ষেপ করেছিলেন মমতা! ঠিক কি হয়েছিল সেদিন?

কালীঘাটে তৃণমূলের কর্মসমিতির বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামলাতে নিজেই হস্তক্ষেপ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাটের বৈঠক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নিজেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দু’জনকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে শনিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে দলীয় কর্মসমিতির বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন চর্চা। দলীয় সূত্রের দাবি, সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কুণাল ঘোষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। তালিকায় ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েন।

সূত্রের খবর, সংগঠনের কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন কুণাল ঘোষ। কিন্তু সেই মুহূর্তে বিষয়গুলি নিয়ে এগোতে রাজি হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, পরে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।

এরপরই বৈঠকের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলীয় সূত্রের দাবি, কুণাল ঘোষ অভিষেককে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, “লেবু কচলে তেতো করবে না।” পাল্টা অভিষেক কুণালের কাছে প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি সংবাদমাধ্যমে সুমিত রায় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন।

জবাবে কুণাল জানান, তিনি সচেতনভাবেই সেই মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সুমিত রায় দলের কোনও পদাধিকারী নন, ফলে তাঁকে দলের তরফে সমর্থন করার প্রশ্নই ওঠে না।

এরপর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে অভিষেককে নিয়ে প্রকাশ্যে হওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ। অভিষেক দাবি করেন, কুণাল তাঁর সম্পর্কেও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। যদিও কুণাল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি।

দলীয় সূত্রের দাবি, এই পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে কথার লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন নিজের আসন ছেড়ে উঠে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিষেক ও কুণাল— দু’জনের মাথায় হাত রেখে শান্ত থাকার বার্তা দেন।

মমতার বার্তা ছিল স্পষ্ট— বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সংঘাতে না পৌঁছয়। সূত্রের খবর, সেই সময় কুণাল ঘোষও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, সুমিত রায়কে সমর্থন করে তিনি কোনও বিবৃতি দিতে পারবেন না।

বৈঠকে উপস্থিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতারাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ ও নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্যের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর