স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের, ‘বিদ্রোহী’দের স্বীকৃতি না দেওয়ার আর্জি, দিল্লিতে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন

বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক ব্লক গঠনের জল্পনার মাঝেই স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দিল তৃণমূল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভায় তৃণমূলের সম্ভাব্য ভাঙন ঘিরে রাজনৈতিক নাটকীয়তা আরও তীব্র হল। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের বৈঠক চলাকালীনই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে দলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রবিবার রাজধানীতে রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল চরমে। একদিকে বিদ্রোহী সাংসদরা পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের রূপরেখা নিয়ে বৈঠক করছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের মূল শিবিরও পাল্টা পদক্ষেপ শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০ জুন তারিখের চিঠি, যা স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ জানান, কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাঁদের দাবি, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো এবং সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে দলভাঙার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

সাগরিকা ঘোষের বক্তব্য, এভাবে আলাদা গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে কীর্তি আজাদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ এবং মহারাষ্ট্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় অনুযায়ী, দলীয় বিভাজনের এমন প্রক্রিয়া আইনসম্মত নয়। সেই কারণেই তাঁরা স্পিকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে বিদ্রোহী শিবিরও নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রবিবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ একাধিক বিদ্রোহী সাংসদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানান, অধিকাংশ সাংসদ এবং বিধায়কের অনুরোধেই তিনি এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্রোহী শিবিরের ইচ্ছা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান উপদেষ্টা ও সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যান, তাহলে সেই নতুন গোষ্ঠীর নেতৃত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

দিল্লির এই সমান্তরাল রাজনৈতিক তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা অবস্থানের মধ্যে শেষ পর্যন্ত স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর