তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ফের চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানা জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। এতদিন নীরব থাকলেও রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় সেই রহস্য আরও বাড়িয়ে দিলেন তিনি।
একসময় তৃণমূলের অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সায়নী ঘোষ। দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রচার—সব ক্ষেত্রেই তাঁকে দেখা যেত প্রথম সারিতে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব হয়ে যান যাদবপুরের সাংসদ।
এরই মধ্যে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের যে চিঠি প্রকাশ্যে আসে, সেখানে সায়নী ঘোষের স্বাক্ষরও দেখা যায়। ওই তালিকায় তাঁর নাম থাকায় জল্পনা আরও জোরদার হয় যে, তিনিও কি বিদ্রোহী শিবিরের অংশ হয়ে উঠেছেন?
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, লোকসভার একাংশ সাংসদ পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একাধিক সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছেছেন। সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন ব্লকের দাবি জানানো হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সায়নী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কারণ দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও তাঁর নাম উঠে আসে বিদ্রোহী তালিকায়। পরবর্তীতে তাঁকে যুব সংগঠনের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
রবিবার দিল্লি যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সায়নী। তবে প্রত্যাশিতভাবে কোনও স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান জানাননি তিনি। বরং রহস্য বজায় রেখেই বলেন, “এখন কিছু বলব না। যখন বলার সময় আসবে, তখন বলব। ধীরে ধীরে সব জানতে পারবেন।”
তিনি আরও জানান, সংবাদমাধ্যমের কাছে নয়, প্রয়োজন হলে নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষের কাছেই জবাবদিহি করবেন। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।
শুধু বক্তব্য নয়, এদিন তাঁর উপস্থিতিতেও ছিল বদলের ছাপ। দীর্ঘদিনের পরিচিত লুকের পরিবর্তে ছোট চুল ও কুর্তি পরিহিত সায়নীকে দেখে অনেকেরই নজর গিয়েছে তাঁর নতুন উপস্থিতির দিকে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চেহারার পরিবর্তনের চেয়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই এখন বেশি আগ্রহ রাজ্য রাজনীতিতে।
লোকসভায় সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আবহে সায়নী ঘোষের পরবর্তী পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরে থাকবেন, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন—সেই উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।



