নদিয়ার কল্যাণীতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। পুলিশের পাঠানো নোটিসের জবাব না মেলায় তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা বলে দাবি করা তিনটি ফ্ল্যাট সিল করে দেওয়া হয়েছে। ফ্ল্যাটগুলিতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।
পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ই-মেলের মাধ্যমে মুকুটমণি অধিকারীর কাছে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, নোটিস পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটগুলির তালা খুলে দিতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও সাড়া মেলেনি বলে দাবি পুলিশের। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কল্যাণীর ওই তিনটি ফ্ল্যাট সিল করে দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তিনি কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেন, আবাসনের তিনটি ফ্ল্যাট প্রাক্তন বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এবং প্রোমোটার গৌরাঙ্গ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই ফ্ল্যাটগুলিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখা হতে পারে। সেই সন্দেহ থেকেই ফ্ল্যাটগুলিতে তল্লাশির দাবি জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসনের প্রোমোটার গৌরাঙ্গ সরকারকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর মুকুটমণি অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠকে দেখা গিয়েছিল মুকুটমণিকে। পরবর্তীতে তৃণমূল তাঁকে আর প্রার্থী করেনি। স্থানীয়দের দাবি, প্রার্থিতালিকা প্রকাশের পর থেকে কল্যাণীর ওই ফ্ল্যাটে তাঁকে আর দেখা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রাক্তন বিধায়কের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক উত্তর মেলেনি। ফলে এই মামলার তদন্ত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



