বিদ্রোহী শিবিরে ইউসুফ পাঠান? তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনায় নতুন মোড়, সৌরভকেও টানল বিতর্ক

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় ইউসুফ পাঠানের নাম ঘিরে জল্পনা। পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের জল্পনা তীব্র হয়েছে। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নামও।

রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, তৃণমূলের একাংশ সাংসদ পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই বিদ্রোহী শিবিরে ইউসুফ পাঠানও রয়েছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইউসুফের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।

ইউসুফ পাঠানকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল, যখন গুঞ্জন ওঠে যে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক ও বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

তবে সেই জল্পনা দ্রুত খারিজ করে দেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও তাঁকে ইউসুফ পাঠানের কাছে কোনও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেননি। এমনকি কোনও রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক।

এর মধ্যেই ইউসুফ পাঠানের বিরুদ্ধে গুজরাতে একটি জমি সংক্রান্ত মামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনার পর আবারও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি সত্যিই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক জল্পনা?

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ১৮ মে স্পিকারের কাছে জমা পড়া একটি চিঠিতে ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল। সেই তালিকায় সায়নী ঘোষ-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদের নাম রয়েছে। ওই সাংসদরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারাই প্রকৃত বা ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই কারণে দলের প্রতীক এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের উপরও তারা নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

জাতীয় সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকারকে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। যদিও এই প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে এবং দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে জল্পনা যতই বাড়ুক না কেন, ইউসুফ পাঠানের ভূমিকা এখন বিশেষভাবে নজরে রয়েছে। ক্রিকেট মাঠ থেকে সংসদের রাজনীতিতে আসা এই তারকার পরবর্তী পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর