পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা ভাঙনের আবহে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বীরভূমের চারবারের সাংসদ ও অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতা, দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনাগুলির মাঝে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের ভিতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। প্রথমে বিধানসভার পরিষদীয় দলে ফাটল, পরে লোকসভাতেও একাংশ সাংসদ পৃথক অবস্থান নেওয়ার পথে হাঁটেন। সেই সময় প্রথম সারিতে না থাকলেও ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন শতাব্দী রায়।
রাজনৈতিক সূত্রে সবচেয়ে বেশি চর্চিত ঘটনা ছিল দিল্লিতে শতাব্দীর সরকারি বাসভবনে বিদ্রোহী সাংসদদের একাধিক বৈঠক। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক তৎপরতা জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। বিদ্রোহী শিবিরের কৌশল নির্ধারণে শতাব্দীর ভূমিকা নিয়ে তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসা এক নথিতে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বাক্ষরের তালিকাতেও শতাব্দীর নাম সামনে আসে। পরে দিল্লিতে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই বিমানে যাত্রা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকে অংশ নেওয়াও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও শতাব্দীকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে বিদ্রোহী শিবিরের সাংগঠনিক সমন্বয় ও রাজনৈতিক যোগাযোগে তিনি অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে শতাব্দী রায় সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কখনও তীব্র আক্রমণ শানাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে দলের মধ্যে পর্যাপ্ত আত্মসমালোচনা হয়নি। তাঁর মতে, সাংসদদের মতামত শোনার পরিবর্তে উপর থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বীরভূমের রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে শতাব্দীর নিজস্ব অবস্থান ছিল। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য, বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে তাঁর একাধিক মন্তব্য অতীতেও শিরোনামে এসেছে। ফলে দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে তাঁর অসন্তোষ নতুন নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর দিল্লির পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের দিকে। বিদ্রোহী সাংসদরা স্পিকারের কাছে পৃথক অবস্থানের দাবি জানাবেন কি না, অথবা এনডিএ-র সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের অন্যতম আলোচিত চরিত্র যে শতাব্দী রায়, তা নিয়ে বিশেষ দ্বিমত নেই।



