সায়নী ঘোষকে ঘিরে যুব তৃণমূলে বিতর্ক তুঙ্গে, ‘নিখোঁজ’ সাংসদের খোঁজে পুরস্কার ঘোষণার দাবি

যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সায়নী ঘোষের স্বাক্ষরিত বলে দাবি করা নথি ঘিরে বিতর্ক। সাংসদের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি তুলছেন দলের একাংশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে ঘিরে দলের অন্দরে জল্পনা ও বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। যুব তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সাংসদের নামে প্রকাশ্যে আসা একটি স্বাক্ষরিত নথি ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিষয়টি ঘিরে দলীয় কর্মী ও নেতাদের মধ্যে চাপানউতোর এখন প্রকাশ্য।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি নথি, যেখানে সায়নী ঘোষের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা যুব তৃণমূলের গ্রুপে পোস্ট করা হয়। সেই নথিকে কেন্দ্র করে একাংশের দাবি, যদি ওই স্বাক্ষর সত্যিই সায়নী ঘোষের হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। এমনকি তাঁর পদত্যাগের দাবিও উঠতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

নির্বাচনের পর থেকে সায়নী ঘোষকে প্রকাশ্যে খুব কম দেখা যাওয়ায় দলের অন্দরে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ক্ষুব্ধ কিছু যুব নেতা গ্রুপেই তাঁর খোঁজ চেয়ে পোস্ট করেছেন। এমনকি ‘সায়নী ঘোষের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার’ দেওয়ার কথাও এক যুব নেতা ওই গ্রুপে উল্লেখ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিক মহলে সায়নী ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল নেতৃত্বের অন্যতম আস্থাভাজন মুখ হিসেবে পরিচিত। যাদবপুরের সাংসদ হিসেবে তিনি যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনই যুব সংগঠনের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সম্প্রতি পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে যুব তৃণমূলের দায়িত্বও তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈঠকের পর থেকেই সায়নীকে ঘিরে জল্পনা বাড়তে থাকে। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসা এক তালিকায় তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হলে সেই বিতর্ক আরও গভীর হয়। এরপরই যুব তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এদিকে বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সায়নী ঘোষকে দেখা যায়। মুখে মাস্ক পরে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এ বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি।

যুব নেতা মৃত্যুঞ্জয় পালের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে যে স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সায়নী ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সংগঠনের দায়িত্বে থাকা একজন নেত্রী হিসেবে তিনি কোন অবস্থানে রয়েছেন, তা কর্মী-সমর্থকদের জানানো উচিত।

এর মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্বে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। শুক্রবার রাতে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, মালা রায়ের দায়িত্ব সামলাবেন আলিফা আহমেদ। তবে যুব তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সায়নী ঘোষকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আপাতত আরও বাড়তেই পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন