কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সোমবার পুরসভার সদর দফতরে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পুর প্রশাসনে, বাতিল করা হয়েছে ছুটিও। স্বচ্ছতা অভিযান থেকে শহর পরিচালনা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরের আগে কেন্দ্রের স্বচ্ছতা কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে সরকার। সেই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে কলকাতা পুরসভায় শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি অবশ্য তাঁর প্রথম পুরসভা সফর নয়। এর আগে ভবানীপুর এলাকার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো অফিসে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বর্তমানে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ক্ষমতা হারিয়েছে এবং সম্প্রতি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ফলে পুর বোর্ড কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকের মাধ্যমেই কলকাতা পুরসভার কাজকর্ম চলবে। এদিকে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় জলনিকাশি, রাস্তার পরিস্থিতি এবং নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তার সঙ্গে সামনে রয়েছে উৎসবের মরসুমও।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এবং পুরসভার মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, সোমবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারেন।
পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরের পরিষেবা, বর্ষা মোকাবিলা, অবকাঠামোগত কাজ এবং নাগরিক পরিষেবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। স্বচ্ছতা কর্মসূচির সূচনা যেমন এই সফরের অন্যতম কারণ, তেমনই শহর পরিচালনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী— এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



