সাড়ে ৮ ঘণ্টা CID জেরা, ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে অভিষেক

সই জালিয়াতি মামলায় টানা সাড়ে ৮ ঘণ্টা জেরা CID-এর। ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেলেন অভিষেক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে ফের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে সিআইডি আধিকারিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তবে তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি অভিষেক।

নির্ধারিত সময়ের আগেই, প্রায় পৌনে ১২টা নাগাদ সিআইডি দপ্তরে পৌঁছে যান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এরপর টানা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সই জালিয়াতি মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবার এই মামলায় সিআইডির তলবে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনও দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তদন্তকারী মহলের একাংশের দাবি, বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরে তিনি অস্পষ্ট বা সীমিত তথ্য দিয়েছেন, যার ফলে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছিল।

রবিবারের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন মাত্রা যোগ হয় বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ। একই মামলায় হাজিরা দিতে ভবানী ভবনে পৌঁছন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে কিছু সময়ের জন্য অভিষেক এবং কুণালকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়।

কুণাল ঘোষ দপ্তর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও কিছু সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যান সিআইডি আধিকারিকরা। শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বের হন তিনি।

দপ্তর থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটে যান অভিষেক। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এদিন কালীঘাটে পৌঁছনোর সময় কিছু বিক্ষোভকারীর স্লোগানও শোনা যায়।

বর্তমানে একাধিক মামলার তদন্তের মুখে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দপ্তরে হাজিরা দিতে হতে পারে। পাশাপাশি মঙ্গলবার ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় আবারও সিআইডির সামনে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

এর বাইরে কয়লা পাচার মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর নাম তদন্তের আওতায় রয়েছে। সম্প্রতি আমফান ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আরও একটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

ফলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই চাপের মুখে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী কয়েক দিনের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং একাধিক মামলার অগ্রগতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর