রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটের জেরে অযোধ্যায় বন্ধ হয়ে গেল বহু বছরের পুরনো ‘রাম রসোই’—যেখানে প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার পেতেন অসংখ্য ভক্ত ও দরিদ্র মানুষ। সিলিন্ডারের অভাবে রান্না সম্ভব না হওয়ায় আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এই হেঁশেল। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সমাজবাদী পার্টি (সপা), এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অযোধ্যার সাংসদ।
অযোধ্যার এই ‘রাম রসোই’ বহু বছর ধরে রামমন্দির দর্শনে আসা ভক্তদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি হেঁশেলের বাইরে একটি নোটিস টাঙানো হয়, যেখানে জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কট তৈরি হয়েছে। আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণেই জরুরি পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে হেঁশেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর ফলে রামমন্দির দর্শনে আসা বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ‘রাম রসোই’ বন্ধ হল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাঁর অভিযোগ, যে রামের নাম করে বিজেপি রাজনীতি করে, সেই অযোধ্যাতেই রামের হেঁশেল বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারের ব্যর্থতারই প্রমাণ।
তিনি দাবি করেছেন, অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে এই হেঁশেল পুনরায় চালু করা হোক। কারণ এখানে বহু দরিদ্র মানুষ ও ভক্ত প্রতিদিন খাবার পেতেন।
সাংসদ আরও জানান, ১৫ মার্চের মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে তিনি প্রতিবাদে ধরনায় বসবেন।
এই ইস্যুতে সপা সভাপতি অখিলেশ যাদবও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি নেতারা দাবি করছেন দেশে গ্যাসের কোনও সঙ্কট নেই। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষ গ্যাস পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।



