মাথায় চুল কমে যাওয়া থেকে রোগা হয়ে যাওয়া—সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে সলমন খানকে। অভিনেতার চেহারা ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অনুরাগীদের একাংশ। এ বার ‘বিগ বস্ ২০’-এর মঞ্চে সেই কটাক্ষেরই জবাব দিলেন সলমন। কথা বললেন হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের গুঞ্জন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে।
চুল নিয়ে প্রশ্নের প্রসঙ্গে সলমন জানান, তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। কেউ বলছেন, তাঁর টাক পড়ছে, আবার কেউ মনে করছেন, কোনও ছবির চরিত্রের জন্য তিনি এমন লুক নিয়েছেন। অভিনেতার বক্তব্য, তাঁর চেহারা নিয়ে এমন মন্তব্যের পিছনে যে কারণ দেখানো হচ্ছে, তা নিয়েও ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
সলমনের কথায়, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রায় দু’মাস আগে মারা গিয়েছেন। সেই সময়ও তাঁকে নিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর মতো নানা মন্তব্য করা হয়েছিল। অভিনেতা স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত ভাবে তিনি এই ধরনের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু প্রত্যেক মানুষ একই ভাবে নেতিবাচক মন্তব্য সামলাতে পারেন না।
‘অনেকে অবসাদে চলে যান’
সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে নিয়ে লাগাতার কটাক্ষ করার পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেন সলমন। তাঁর বক্তব্য, অনেক মানুষের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। দিনের পর দিন এমন নেতিবাচক মন্তব্য চলতে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।
সলমন বলেন, অনেকে এই ধরনের পরিস্থিতির কারণে অবসাদে চলে যান। এমনকি তাঁর দাবি, কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। তাই শুধুমাত্র কোনও তারকা বলেই তাঁর চেহারা, স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে কোনও ধরনের মন্তব্য করা যায়—এই প্রবণতার বিরোধিতা করেন অভিনেতা।
নিজের ক্ষেত্রে অবশ্য সমালোচনাকে অন্য ভাবে দেখেন সলমন। তাঁর বক্তব্য, নেতিবাচক পরিস্থিতিকে নিজের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন তিনি। যাঁরা তাঁকে নিয়ে খারাপ কথা বলেন, তাঁদের ভুল প্রমাণ করার তাগিদ পান। আবার যাঁরা তাঁকে প্রশংসা করেন, তাঁদের আরও বেশি প্রশংসা করার সুযোগ করে দিতে চান।
বন্ধুর মৃত্যু নিয়েও কথা
চেহারা নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গে সলমন তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক বন্ধু তথা ব্যবসায়ী কুমুদ রাণের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করেন। চলতি বছরের ৯ জুন কুমুদের মৃত্যু হয়। তাঁর শেষকৃত্যে সলমন ছাড়াও পরিবারের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
শেষকৃত্যে সোহেল খান, আরবাজ় খান, অর্পিতা খান এবং হেলেনকেও দেখা যায়। ঘনিষ্ঠ মানুষের মৃত্যু যে অভিনেতার জন্যও আবেগঘন মুহূর্ত ছিল, সেই প্রসঙ্গই উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
‘এরা কি আদৌ মানুষ?’
সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষকারীদের ভাষা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সলমন। তাঁর বক্তব্য, মন্তব্যের ভাষা থেকেই অনেক সময় সেই ব্যক্তির মানসিকতা ও পারিবারিক শিক্ষার পরিচয় পাওয়া যায়।
তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এমন প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার। তাঁর বক্তব্য, কেউ তাঁর ছবি দেখতে না চাইলে না দেখতেই পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন মন্তব্য করা উচিত নয়।
ক্যাটরিনা কইফের পক্ষেও কথা সলমনের
এ দিন ক্যাটরিনা কইফের প্রসঙ্গেও কথা বলেন সলমন। নাম না করে তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। সন্তান জন্মের পর কোনও অভিনেত্রী যখন ফের কাজে ফিরতে চাইবেন, তখন নিজের সুবিধা মতো ফিট হয়ে ফিরবেন।
সলমনের বক্তব্য, এই সময়টায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অভিনেত্রীর শরীর বা ওজন নিয়ে বাইরে থেকে মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।
মহিলা অভিনেত্রীদের নিয়ে পাপারাৎজ়িদেরও বার্তা
শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কটাক্ষ নয়, মহিলা অভিনেত্রীদের ছবি তোলার ধরন নিয়েও সরব হন সলমন। বিশেষ করে পিছন দিক থেকে মহিলাদের ছবি তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি।
অভিনেতার দাবি, তাঁর ভাইঝিও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এই ধরনের ছবি তোলার ক্ষেত্রে পাপারাৎজ়িদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে অভিনেতাদেরও এমন পরিস্থিতির প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে ‘বিগ বস্ ২০’-এর মঞ্চে সলমনের বক্তব্যে উঠে এল তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করার প্রবণতা। নিজের চেহারা নিয়ে কটাক্ষকে তিনি গুরুত্ব না দিলেও, একই ধরনের মন্তব্যে অন্য কেউ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হতে পারেন—এই বিষয়টিই বারবার তুলে ধরেছেন অভিনেতা।



